প্রত্যাশিত রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল :১৪ দল

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৯
একাত্তরের মানবতাবিরোধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল বলেছে, দেশের ১৬ কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। জাতি ন্যায়বিচার পেয়েছে। শাহবাগের আন্দোলনরত তরুণ প্রজন্মেরও বিজয় হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণার পর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠকে নেতৃবৃন্দ এ প্রতিক্রিয়া জানান। এদিকে রায় ঘোষণার পরপরই রাজধানীর শতাধিক স্থানে পৃথক পৃথক আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসহ ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা। ১৪ দলের বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানান, কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ একটি ঐতিহাসিক রায়। দেশবাসী দীর্ঘদিন ধরে এ রায়ের জন্য অপেক্ষা করছিল। এ রায়ে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মা শান্তি পেয়েছে। দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের প্রতিদান দেয়া হয়েছে। শহীদদের পরিবারের সদস্যরা সান্ত্বনা পেয়েছে। বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্তির পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছিলাম। জনগণ ন্যায়বিচার পেয়েছে। এ মামলার সাক্ষী, তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটরদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম, যারা রাজপথে থেকে আন্দোলন করেছেন, গণজাগরণ সৃষ্টি করেছেন তাদের প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেসব ইসলামী দল জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করেছে তাদের ধন্যবাদ জানাই। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, জনগণ যে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছিল, তা পূরণ হয়েছে। তিনি বলেন, সাঈদী ধর্ম প্রচারক নন, তিনি ছিলেন ৩০ বছর বয়সী রাজাকার কমান্ডার। বৃদ্ধ বয়সে আলখেল্লা গায়ে দিয়ে তিনি বয়স জালিয়াতি করেছিলেন। আর ৩০ বছর বয়সে কী করেছিলেন তা আপনারা বুঝতে পারেন। তার ফাঁসির রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তি যুদ্ধাপরাধী নয়, দল যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জামায়াত নিষিদ্ধ হতে হবে। ১৪ দলের কেন্দ বাদশা, জাসদের শিরিন আখতার, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের অসিত বরণ রায়, গণতন্ত্রী পার্টির নূরুর রহমান সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আহমদ হোসেন প্রমুখ। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করতে আগামী ৪ মার্চ সব জেলা-উপজেলায় এবং ৯ মার্চ ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে ১৪ দল। বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া এছাড়া সাঈদীর ফাঁসির রায়কে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, বাংলাদেশের ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মহাসচিব আব্দুল জলিল ভুঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয়ক কমিটি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন-বাংলাদেশসহ অনেক সংগঠন।