ইয়াহিয়ার ঘোষণায় ফেটে পড়ে সারাবাংলা

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৪০
স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত আন্দোলনের সূচনা হয় একাত্তরের পয়লা মার্চ। তত্কালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এদিন বেতার ভাষণে ৩ মার্চের গণপরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। এ সময় ঢাকা স্টেডিয়ামে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম) পাকিস্তান বনাম বিশ্ব একাদশের ক্রিকেট খেলা চলছিল। ইয়াহিয়া খানের ওই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত দর্শক স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ততক্ষণে অগণিত মানুষ পল্টন-গুলিস্তানে বিক্ষোভ শুরু করে দিয়েছে। সেই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপ নেয়। সেদিন মতিঝিল-দিলকুশা এলাকার পূর্বাণী হোটেলে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা সেখানে গিয়ে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’ ইত্যাদি শ্লোগানে মুখর করে তোলে। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশের স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা-বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, কল-কারখানা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। অচল হয়ে পড়ে দেশ। স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলন দিন দিন তীব্র হয়ে ওঠে। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বাঙালি যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জন্য ক্ষণ গুণছিল তখন সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান আকস্মিকভাবে এদিন জাতীয় পরিষদের ৩ মার্চের নির্ধারিত অধিবেশন বাতিল করেন। অধিবেশন বাতিলের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ফুঁসে ওঠে বাংলাদেশ। বিক্ষোভে উত্তাল হয় রাজপথ। পহেলা মার্চ দুপুর থেকেই পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে সর্বাত্মক অসহযোগ শুরু হয়। তখন সারাদেশের মানুষ আশা নিরাশা ও আশঙ্কা এবং সম্ভাবনার দোলাচলে দুলছিল। সচেতন তরুণরা মনে মনে তৈরি হচ্ছিল কঠিন সংগ্রামের সংকল্প গ্রহণে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২রা ও ৩রা মার্চ তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে সর্বাত্মক হরতাল পালনের ঘোষণা দেন এবং ৭ই মার্চ তত্কালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভার ঘোষণা দেন। সেই শুরু। একে একে পেরিয়ে আসে বিক্ষুব্ধ ২৫টি দিন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর আক্রমণ চালায়; শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এরই পথ ধরে নয় মাসে আমরা পাই একটি স্বাধীন দেশ-বাংলাদেশ।