শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দরে মেসার্স পারজোয়ার মেশিনারির আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার ম্যানেজার সুনীল দাসকে (৬২) নিমর্মভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার ভোরে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে সীমান্তবর্তী দাওধারা পাহাড়ের গহীন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নিখোঁজ হওয়া কামাল হোসেন (২৫) নামে মোটরসাইকেল চালকের কঙ্কাল।
পুলিশ ও সুনীল দাসের সহকর্মী সৈয়দ মজনু মিয়া (২৫) জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সুনীল কয়লা ডিপোর ব্যবসায়ী অফিস থেকে টয়লেটে যায়। এসময় সুনীল ঘরের বাইরে থেকে তালা দিয়ে চাবি নিয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ অফিস ঘরে না ফেরায় মোবাইলে কল দেন মজনু মিয়া। কল রিসিভ না হওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হলে ঘরের জানালা খুলে টর্চ লাইট দিয়ে আশপাশের লোকজন খুঁজতে থাকেন মজনু। এসময় জনৈক সেকান্দর আলীকে দেখতে পেয়ে ডেকে বিষয়টি জানান। পরে সেকান্দর বন্দরের অন্য শ্রমিকদের সাথে নিয়ে রাত আনুমানিক দুইটার দিকে পশ্চিমের টয়লেটের সামনে থেকে রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় সুনীলকে দেখতে পায়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়লা শ্রমিক নেতা আরশাদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে। আরশাদের (২৮) সাথে সুনীলের ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল বলে জানায় স্থানীয় লোকজন। নিহতের মেয়ের জামাই থানায় হত্যা মামলা করেছে।
অপরদিকে দাওধারা ইসলামিক মিশন হাসপাতালের পেছন পাহাড়ের গহীন থেকে কামাল হোসেন (২৫) নামে এক মোটরসাইকেল চালকের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। পুলিশ ও পরিবারের লোকজন জানায়, ৩১ জানুয়ারি উপজেলার আমবাগান বেকিকুড়া গ্রামের দরবেশ আলীর ছেলে কামাল হোসেন ভাড়ায় চালানোর জন্য মোটরসাইকেলটি নিয়ে বের হয়। পরে কয়েকদিনেও তার খোঁজ না মিললে কামালের বড় ভাই নালিতাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। বৃহস্পতিবার বিকালে দাওধারা গ্রামের জনৈক গৃহিণী মিশন হাসপাতালের পেছনের পাহাড়ে লাকড়ি কুড়াতে গেলে কঙ্কাল দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের জানায়। পরে সংবাদ পেয়ে রাতেই পুলিশ কঙ্কালগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে শুক্রবার নালিতাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
