নতুন কোনো জটিলতা তৈরি না হলে অবশেষে ক্রিকেট স্টেডিয়াম হচ্ছে কক্সবাজারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য জমি বরাদ্দ দিতে পর্যটন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কাছেই গলফ মাঠের একাংশে প্রায় ১০ একর জমির উপর হবে এই স্টেডিয়াম। ২০১৪ সালের মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তৈরি হবে এই স্টেডিয়াম। এরফলে কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হল বলে মনে করছে ক্রীড়ামোদীরা। এর পাশাপাশি এই ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে বলে আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
১৯৯৬ সালে বিসিবির তত্কালীন সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর আগ্রহে কক্সবাজারে ক্রিকেট স্টেডিয়াম গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। সর্বশেষ এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে কক্সবাজারে আবারও ক্রিকেট স্টেডিয়াম গড়ার তত্পরতা শুরু হয়। এরই অংশ হিসাবে বিসিবির তত্কালীন সহ-সভাপতি (বর্তমানে এডহক কমিটির কর্মকর্তা) সাজ্জাদুল আলম ববিসহ বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বেশ কয়েকবার কক্সবাজারে এসে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য উপযুক্ত জমির খোঁজ নেন। তারা প্রাথমিকভাবে ৩টি স্থানকে উপযুক্ত বলে বাছাই করেন। পরে বিসিবির তত্কালীন সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল এমপি কক্সবাজারে এসে পর্যটন গলফ মাঠটিই ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসাবে চিহ্নিত করেন।
কিন্তু স্টেডিয়াম নির্মাণের দায়িত্বে কি বিসিবি থাকবে, নাকি ক্রীড়া পরিষদ থাকবে—এ নিয়ে দীর্ঘদিন দু’পক্ষে চলে রশি টানাটানি। পর্যটন মন্ত্রণালয়ও তাদের জমি ছেড়ে দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। এক পর্যায়ে কক্সবাজারে ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর সমস্ত অনিশ্চতা কেটে গেছে। এখন কক্সবাজারবাসী অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য।
আর প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের ফলে কক্সবাজারের ক্রীড়াপ্রেমী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দারুণ উল্লাস লক্ষ্য করা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেলালউদ্দিন কবীর বলেন, ‘ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ায় জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হয়েছে।’
কক্সবাজার ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মিত হলে এর সুফল পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও পাবেন বলে মনে করেন কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার। এ বিষয়ে কক্সবাজার পর্যটন উন্নয়ন সাংবাদিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হাসান পলাশ বলেন, ‘আমরা পর্যটনের গলফ মাঠে ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘদিন রাস্তায় আন্দোলন করেছি। আমাদের একটি দাবি পূরণ হওয়ায় আমরা সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
