কক্সবাজারে অপর্যাপ্ত দুগ্ধ খামার

চাহিদা ৫শ’ টন উত্পাদন ২৫টন

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৩, ২১:১৪
আহমেদ গিয়াস, কক্সবাজার প্রতিনিধি কক্সবাজারে দৈনিক ৫শ’ টন দুধের চাহিদার বিপরীতে উত্পাদিত হচ্ছে মাত্র ২৫ টন। যা চাহিদার বিশ ভাগের এক ভাগ মাত্র। গবাদিপশুর চারণভূমি সংকট এবং বড় আকারের দুগ্ধ খামার গড়ে না উঠায় কক্সবাজারের পরিস্থিতি এমন নাজুক হয়ে উঠেছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের। সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজারে তরল দুধের সংকটের কারণে শিশুখাদ্য এবং মিষ্টি তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে গুঁড়ো দুধের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু বাজারে প্রাপ্ত গুঁড়ো দুধ নিম্নমানের হওয়ায় এসব দুধ থেকে তৈরি মিষ্টি ও দই খেয়ে শিশুরা, দৃষ্টি ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী রোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। এমনকি পূর্ণ বয়স্ক মানুষও নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে আশংকা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। কক্সবাজার জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, কক্সবাজার জেলায় দুধের চাহিদা রয়েছে দৈনিক প্রায় ৫শ’ মেট্রিক টন। অথচ উত্পাদিত হচ্ছে মাত্র ২৫ মেট্রিক টন। ৯৫ ভাগ ঘাটতি পূরণ হচ্ছে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত নিম্নমানের গুঁড়ো দুধে। কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মিজবাহউর রহমান জানান, বিদেশ থেকে আমদানীকৃত গুঁড়ো দুধের তৈরি মিষ্টি ও দই খেলে স্বল্পমেয়াদী ব্যাকটেরিয়াজনিত ল্যাক্টোবিসিলাম, পেটের পীড়া, কিডনির জটিলতা, রক্তের সংক্রমণ, যকৃতের সংক্রমণ এবং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা।এছাড়া খাদ্যে বিষক্রিয়াও হতে পারে। আবার শিশুরা যদি এসব গুঁড়ো দুধের তৈরি মিষ্টি ও দই খায় তাহলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এবং মা-বাবারা খেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দিতে পারে। কক্সবাজার জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভারত, থাইল্যান্ড, ডেনমার্ক ও মালয়েশিয়া থেকে নিম্নমানের প্লাস্টিকের বস্তা ভর্তি গুঁড়ো দুধ আমদানী করা হয়।