মালিবাগ, মৌচাক ও শান্তিনগরে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৩, ২২:৫৪
রাজধানীর মালিবাগ, মগবাজার, মৌচাক, শান্তিনগর, কাকরাইল, সাতরাস্তার মোড় এলাকায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। বিশেষ করে মালিবাগ, কাকরাইল, শান্তিনগর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অন্তত ৮টি গাড়ি ভাংচুর, ৪টি গাড়িতে আগুন দেয় এবং মালিবাগের পুলিশ বক্স ভাঙচুর করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে অর্ধশত রাউন্ড রাবার বুলেট ও রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তার ডান পায়ের গোড়ালিতে গুলি লেগেছে। এছাড়া আরো অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বিকাল চারটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলের প্রথম অংশ মালিবাগ পার হওয়ার সময় শান্তিনগরে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। মিছিলের মধ্যভাগে নেতৃত্বে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা। এ সময় গলিপথ দিয়ে একটি মিছিল সমাবেশে যোগ দিতে এলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা একটি গাড়িতে আগুন দেয় এবং মালিবাগের পুলিশ বক্স ভাঙচুর করে। পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছোঁড়ে। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এর কিছুক্ষণ পরই মিছিলকারীরা মালিবাগ পদ্মা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের সামনে আরো একটি প্রাইভেট কারে আগুন ধরিয়ে দেয়। চলতে থাকে এলাপাতাড়ি গাড়ি ভাংচুর। বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা অতর্কিতে মালিবাগের কর্ণফুলী টুইনটাওয়ার, মৌচাক এবং শান্তিবাগ এলাকায় ভাংচুর শুরু করলে আতঙ্কিত লোকজন ছোটাছুটি করতে থাকেন। এলোপাতাড়ি যানবাহন ভাঙচুরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারীরা ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য রাজারবাগ পুলিশ লাইনের দিকে দৌড়াতে থাকেন। এ সময় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় মালিবাগ বাটা বাজারের সামনে একটি প্রাইভেট কার জ্বালিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা। এছাড়া টুইন টাওয়ার ও মালিবাগ মোড়ে আরো দু’টি প্রাইভেট কারে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। পরে ভিকারুন্নিসা স্কুলের সামনে একটি প্রাইভেট কারে আগুন দেয়া হয়। এখানে পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে মিছিলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এদিকে মিছিলের প্রথম ভাগ মগবাজার মোড়ে পৌঁছলেও মধ্যভাগ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং শেষভাগ কাকরাইল মোড় থেকে নয়াপল্টনে ফিরে যায়। এলাকায় দায়িত্বে থাকা এসআই জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের জানান, মালিবাগ পার হওয়ার সময় মিছিলের পেছনের অংশ হঠাত্ করে মালিবাগ পুলিশ বক্সের ওপরে হামলা চালায়। এরপর পুলিশ অ্যাকশনে যায়। এ সময় মেরী নামে এক পথচারী আহত হন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২০/৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। তবে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। এদিকে মৌচাক এলাকায় বিএনপির হামলার শিকার একটি গাড়ির চালক শহীদুল ইসলাম জানান, কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিএনপির মিছিল থেকে হাতবোমা ফাটিয়ে ভাংচুর শুরু হয়। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মতিঝিল বিভাগের এডিসি মেহেদী হাসান বলেন, শনিবার বিকাল ৪টার দিকে বিএনপির মিছিল ঠিকমতোই যাচ্ছিল। হঠাত্ করে মালিবাগ মোড়ে পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ ও গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। মানুষের জানমাল রক্ষার্থে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিকাল ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।