চিকিত্সকের অভাবে গৌরনদী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘ ৩ বছর যাবত্ সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ। ফলে প্রসূতিদের ভোগান্তি বাড়ছে। জানা গেছে, ২০১০ সালের ২৭ মে থেকে এখানে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
জানা গেছে, ২০০২ সালে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তত্কালীন মহাপরিচালক মোঃ ফজলুর রহমান হাওলাদার তার নিজ এলাকার গরীব মানুষের কল্যাণের কথা ভেবে গৌরনদী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য একটি আধুনিক অপারেশন থিয়েটার স্থাপনসহ ১ জন গাইনী চিকিত্স্যক ও ১ জন এনেসথেসিস্ট নিয়োগ করেন। তাদের বসবাসের জন্য বিপুল অর্থব্যয়ে গৌরনদী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পাশেই নির্মাণ করা হয় আধুনিক ভবন। দেয়া হয় একটি এ্যাম্বুলেন্স। ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের মে পর্যন্ত প্রসূতি এখানে বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশনের সুযোগ পেতেন। কিন্তু ওই সময় হঠাত্ করে অন্যত্র বদলি হয়ে যান এনেসথেসিস্ট ডাঃ মাহাবুবুর রহমান। এরপর থেকে গৌরনদী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ। ফলে বিপাকে পড়েছে এলাকার গরিব লোকজন। বাইরের কোন ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের খরচ হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এ কারণে প্রসূতি মৃত্যুহার বেড়েছে। সিজারিয়ান অপারেশন ছাড়াও গৌরনদী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক নানা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টিউব ভেকটমি, ভ্যাসেকটমি, নানা স্থায়ী ও অস্থায়ী পদ্ধতি। সপ্তাহে ২ দিন এ কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে গত ৯ নভেম্বর ডাঃ আঃ সামাদও অন্যত্র বদলি হয়ে যান। যাওয়ার পর থেকে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। এ কারণে গত ৩ মাস যাবত্ অন্য এলাকা থেকে চিকিত্সক এনে কাজ করাতে হচ্ছে। গৌরনদী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহ মোঃ আঃ হান্নান জানান, গৌরনদী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিত্সক না থাকার বিষয়টি জানিয়ে কয়েক বার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া সত্ত্বেও কোন কাজ হচ্ছে না।
