দেশে মোট দেশজ উত্পাদন-জিডিপি দফায় দফায় বাড়লেও তা টেকসই উন্নয়নে কার্যত ভূমিকা রাখছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা, একই সময়ে সমাজে বৈষম্য বাড়ছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদরা বলেন, জিডিপির এই প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সরকার যতো কার্যক্রম বা উদ্যোগ হাতে নিচ্ছে, বৈষম্য কমাতে এ উদ্যোগ কাজে লাগছে না। ফলে, দেশের একশ্রেণির মানুষের হাতে সম্পদের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থানবিহীন প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, প্রবৃদ্ধিতে শিল্প খাতের অবদান ৩২ থেকে ৩৪ শতাংশ হলে সেখানে কর্মসংস্থান যে হচ্ছে না এমন দাবি অযৌক্তিক। কেননা, এসময়ে এ শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে কোনো উচ্চ মাপের প্রযুক্তির বিকাশ কল-কারখানাগুলোতে দেখা যায়নি।
সমাজসেবা ও জনসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে এ সমিতি। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন কাজী খলীকুজ্জমানের সহধর্মিণী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. জাহেদা আহমদ। এসময় দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ব্যারিস্টার আমির-উল-ইসলামসহ বিশিষ্টজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একজন অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান প্রবৃদ্ধিকে অনেকে কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি বলেন, যা বিষ্ময়কর। এরকম হলে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান বেড়ে ৩৪ শতাংশ হতো না। অবশ্য এটা ঠিক যে হারে বেকার বাড়ছে সেভাবে হয়তো নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে না।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, যে কোনো সম্মাননা উত্সাহব্যঞ্জক। জাতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা পাওয়া নিঃসন্দেহে আনন্দের। তিনি বলেন, তার দর্শনের মূল ভিত্তি মানুষ। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে মানুষের সমঅধিকারের কথা বলা আছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠী, অবহেলিত নারী ও শিশুদের কল্যাণে কাজ করা তার অন্যতম লক্ষ্য। আর এক্ষেত্রে তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ থেকে। বিশেষ করে ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ এ বাক্যটি তাকে বেশি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত বলেন, কাজী খলীকুজ্জমান বঞ্চিত, পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত মানুষদের নিয়ে কাজ করেন। তিনি সবসময় জোর দেন নৈতিকতা ও মানুষের সেবার ওপর। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল বিষয় ছিল বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। এ লক্ষ্যে যারা কাজ করছেন তাদের একজন কাজী খলীকুজ্জমান।
