সৈয়দপুরের কৃষকরা সেচ সংকটে

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৩, ২০:১২
চলতি বোরো আবাদের ভরা মৌসুমে সৈয়দপুরের তীব্র সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকরা চরম আশংকায় পড়েছে। সৈয়দপুরসহ নীলফামারী জেলার চাষিরা মঙ্গাপীড়িত হওয়ায় সেচের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপনে সামর্থ্যবান নয়। এ কারণে কৃষকরা সেচের জন্য নালা, ডোবা, খাল-বিলের পানির অপর নির্ভরশীল। সব সময় তারা এসব পানিধার থেকে সেচকার্য সম্পাদন করে। কিন্তু ফাল্গুন চৈত্রমাসে এসব নালা-ডোবা, খাল-বিলের পানি শুকিয়ে যায়। তাছাড়া অনেকদিন ধরে নালা-ডোবাগুলো ভরাট হয়ে পড়ে থাকায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় পানির সরবরাহ কমে গেছে। এরপরও কৃষকরা বসে নেই। যে যে ভাবে পারছে পানির ব্যবস্থা করে কোনরকমে বোরো আবাদের জন্য চারা রোপণ করে চলেছে। কিন্তু এখন পানির সংকট দেখা দেয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার সৈয়দপুর উপজেলার সৈয়দপুরে ৬ হাজার ৫শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ ভাগ জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে। বাকি ৭৫ ভাগ জমিতে চারা রোপণের জন্য জমি প্রস্তুতির কাজ চলছে। এমতাবস্থায় সেচের পানির অভাব দেখা দেয়ায় ব্যাহত হতে বসেছে বোরো আবাদ। এতে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ধান উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হওয়ার ক্ষেত্রে আশংকা দেখা দিয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের পোড়ারহাট এলাকার কৃষক জয়নুল আবেদীন জানায়, এবার বোরো আবাদের প্রথমেই বীজ সংকট দেখা দেয়। তারপরেও চড়া দামে বীজ কিনে নালা, ডোবা, খাল, বিলের পানি দিয়ে কোনরকমে জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণ করে এখন দেখা দিয়েছে সেচ সংকট। গত কয়েকদিন থেকে বিদ্যুতের লোডশেডিং-এর মাত্রা বেড়েছে। এভাবে লোডশেডিং অব্যাহত থাকলে সেচ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। এতে কৃষক চরম অস্বস্তিতে পড়বে এবং সেচের জন্য হাহাকার সৃষ্টি হবে। তাই তারা সেচ সংকট দূর করতে আশু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কৃষি বিভাগসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।