একশনএইড বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদন
ইত্তেফাক রিপোর্ট
কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নারীরা যৌন হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এই সহিংসতা প্রতিরোধে আইনি কাঠামোতে নেই সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা। ফলে কর্মক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নারীর অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি, সেইসঙ্গে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন।
বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ‘একশনএইড বাংলাদেশ’-এর নতুন এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল শনিবার গুলশান শ্যুটিং ক্লাবে ‘নারীবান্ধব নিরাপদ কর্মস্থল’ নামে একটি আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। একশনএইড বাংলাদেশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, নারীদের প্রতি সহিংসতাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। আর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এর কোনো প্রতিকার না থাকায় বর্তমান কাঠামো সহিংসতাকে আরো উসকে দেয়। যা নারীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।
একশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, মামলার বিলম্বিত নিষ্পত্তি এবং তদন্ত কর্মকর্তা এবং পাবলিক প্রসিকিউটরদের অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্তরা প্রায়ই বিচার পেতে ব্যর্থ হন। এর প্রভাব পড়ছে নারীর মনে, কাজে অথবা সমাজে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান তার পাঠানো বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের নারী ও কন্যা শিশুরা কাঠামোগত বৈষম্য এবং সামাজিক রীতির কারণে বিভিন্ন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার। এটির সমাধান চায় বর্তমান সরকার। প্রয়োজনে আমরা বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেব। নারী নেত্রী খুশি কবির বলেন, মানুষকে শ্রদ্ধা করতে না শিখলে আইনের উন্নতি হবে না। আইন বাস্তবায়ন হবে না। এজন্য আমাদের পাঠ্যপুস্তকেও পরিবর্তন আনা দরকার।
আওয়াজ ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার বলেন, আমাদের নিরাপত্তার কোনো জায়গা নেই। আছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। আছে বৈষম্য। এর প্রতিকার দরকার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেজ এডমিনিস্ট্রেশন-এর অধ্যাপক ও বিজিএমইএ-এর পরিচালক এ মোমেন বলেন, আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যমে একটি টেকসই ব্যবসা ব্যবস্থা পরিচালনা করতে চাই। যেখানে কোনো সহিংসতা থাকবে না।
আলোচনায় অংশ নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন বলেন, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে সরকার আইন সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়ন করবে। তবে শুধু আইন দিয়ে সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের দৃষ্ঠিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার পেনি মর্টন বলেন, সহিংসতার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধান করতে হবে। আমরা চাই নারীর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সংযুক্তি বাড়ুক। এজন্য নারীর প্রতি সহিংসতা একটি প্রতিবন্ধকতা। এটার সমাধান করতে হবে। কারণ সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা না হলে সমাজের উন্নতি হবে না। উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছানোর কর্মসূচির মূলনীতির উপর ভিত্তি করে, একশনএইড ইন্টারন্যাশনাল আগামী তিন বছরের জন্য ‘নারীবান্ধব নিরাপদ কর্মস্থল’ নামে একটি প্রচারাভিযানের উদ্বোধন করেছে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। আলোচনা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা র্যালি ও বেলুন উড়িয়ে এই প্রচারাভিযানের উদ্বোধন করেন। আগামী তিন বছর গবেষণা, প্রচার, সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের পরিবর্তন আনতে নানা কার্যক্রম করবে একশনএইড বাংলাদেশ।
