বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাজ শেষ হয়নি :আতঙ্কে কৃষক

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৩, ২০:১৬
সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলার ১০ হাওরে শত কোটি টাকার বোরো ফসল আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আগাম প্রস্তুতিতে এবারও ভাটা পড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধ মেরামতের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো অর্ধেক কাজই শেষ হয়নি। পাউবোর কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নিয়ে শুরু থেকেই জটিলতা ছিল, এখনো আছে। এতে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলেও প্রতিটি হাওরেই গড়ে ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তাদের দাবি। চাপত্তির হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহিন আলম জানালেন, পাউবোর কাজে কৃষকরা আতঙ্কিত। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, কাজ যেটুকু হয়েছে তার বেশিরভাগই দায়সারা। বাঁধে যেভাবে মাটি ফেলা হচ্ছে তাতে বরাদ্দের ৪০ ভাগ অর্থও ব্যয় হচ্ছে না। নেই তেমন কোন তদারকিও। সামান্য ঢলেই বাঁধ ভেঙ্গে যাবার আশংকা তাদের। পাউবোর প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিরাই ও শাল্লা উপজেলার আওতাধীন পাউবোর ২টি সাব-ডিভিশনের অন্তর্গত ১০টি হাওর রয়েছে। এসব হাওরে বাঁধ রয়েছে প্রায় ৪শ’ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৪০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত। গত নভেম্বরে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের পুনরাকৃতির (রি-সেকনিং) কাজে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়। ্ওই চাহিদার বিপরীতে ৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে স্থানীয়ভাবে গঠিত ৮১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে। দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল হক বলেন, এবার বোরো ফসলের ওপর ঝুঁকি বেশি। কারণ একদিকে ফসল দেরিতে লাগানো হয়েছে আরেকদিকে বাঁধ মেরামতে বরাদ্দ অপ্রতুল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তারা কোন তথ্য দিতে রাজি হয়নি। অধিকাংশ পিআইসির সভাপতিরাও দায়সারা কথা বলেন।