জনবল নিয়োগের অভাবে বগুড়ায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারটি হাসপাতাল ৬ বছরের বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
২০ শয্যার এই হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোসহ সবকিছুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে তা চালু করা যায়নি।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলিয়ার হাটে ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মিত হয় ৪ কোটি ৩২ লাখ ৭ হাজার ২৮ টাকা ব্যয়ে। ২০০৫ সালের ৫ এপ্রিল তারেক রহমান হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এদিকে হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরপরই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এই হাসপাতালের জন্য প্রায় কোটি টাকার আসবাবপত্র ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি পাঠানো হয়। কিন্তু এসব বুঝে নেয়ার লোক না থাকায় পরে তা শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুদাম ঘরে ফেলে রাখা হয়েছে।
নন্দীগ্রামে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০০১-২০০২ অর্থবছরে বিএনপি সরকার উপজেলা সদরে ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় হয় ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। নির্মাণের দীর্ঘ ছয় বছরে জনবলের অভাবে হাসপাতালটি আর চালু হয়নি।
২০০৪ সালে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেল জংশন এলাকায় ২০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। এই প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল তিন কোটি ৩৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা। তবে সান্তাহার এলাকাবাসী জানান, হাসপাতালের কাজ শেষ না করেই ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর স্থানীয় সাংসদ আবদুল মোমিন তালুকদার খোকা হাসপাতাল উদ্বোধন করেন। কিন্তু হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় সে সময় পোস্টিং পাওয়া চিকিত্সক ও অন্য স্টাফরা অন্যত্র বদলি নিয়ে চলে যান। আর হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ করা চিকিত্সা সামগ্রী ছয় বছর ধরে বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
এদিকে নির্মাণের পর আট বছর ধরে ব্যবহার না করায় বগুড়ার কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে আছে। প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এখন ওই কেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবার কাজ চলছে টিনশেডের ভবনে।
বগুড়া সিভিল সার্জন খলিলুর রহমান বলেন, নন্দীগ্রামের হাসপাতালটি চালু আছে, তবে লোকবল কম। পুরোদমে চালু করতে আরো একটু সময় লাগতে পারে। অন্য দুটি হাসপাতাল এখনও আমাদের কাছে হস্তান্তর হয়নি। হস্তান্তর করা হলেই সেগুলো চালুর ব্যবস্থা করা হবে। তবে তিনি কাহালুর দুর্গাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।
