দু’-একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া গতকাল সোমবার রাজধানীতে ঢিলেঢালা হরতাল পালিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ডাকা দুই দিনব্যাপী হরতালের শেষ দিনে তেমন কোন সহিংস ঘটনা ঘটেনি। তবে দিনের শেষভাগে বিকালে রেল যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু কমলাপুর রেল স্টেশনে একটি ট্রেনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। আর দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। এই হোটেলেই তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসা ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি অবস্থান করছেন। হরতাল চলাকালে সকাল থেকেই যানবাহন চলাচল করেছে। তবে রাজধানী থেকে কোন দূরপাল্লার বাস ছাড়েনি। অধিকাংশ এলাকায় দোকানপাট খোলা ছিল। ব্যাংকে লেনদেন হয়েছে। সচিবালয়সহ অফিস-আদালতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল প্রায় স্বাভাবিক। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গোটা রাজধানীজুড়ে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সতর্ক অবস্থানে ছিল।
রাজধানীর অন্যান্য স্থানের মতো সোনারগাঁও হোটেলের আশপাশ দিয়েও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে গতকাল যানবাহন চলাচল করে। সার্ক ফোয়ারার কাছে দুপুর ২টার দিকে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। মোটর সাইকেল থেকে ককটেলটি ছোঁড়া হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হরতাল সমর্থনকারী ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
দু’-একটি চোরাগোপ্তা হামলা ছাড়া গতকাল হরতালের পক্ষে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের রাজপথে দেখাই যায়নি। রাজধানীর মিরপুর, গাবতলী, মতিঝিল, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, ধানমন্ডী, কলাবাগান, নিলক্ষেত, ফার্মগেট, মহাখালী, গুলশান, বাড্ডা, পুরান ঢাকা, সায়দাবাদ, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তেমন কোন সহিংস ঘটনা দেখা যায়নি। মানুষের উপস্থিতি ছিল প্রায় স্বাভাবিক। সকালের দিকে রাস্তায় অফিসগামী যাত্রীদের ভিড় ছিল। সকাল থেকে দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হরতাল বিরোধী খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে ১৪ দল। এসব মিছিলে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষও অংশ নেয়। হরতাল আহ্বানকারীদের রাজপথে দেখা না গেলেও হরতাল বিরোধীদের মিছিল-সমাবেশে রাজপথ ছিল সরব। সকাল ৯টায় স্থানীয় সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের নেতৃত্বে হরতাল বিরোধী একটি মিছিল মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়াসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ করে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, জিরো পয়েন্ট, পুরানা পল্টন মোড়, গুলিস্তান এলাকা হরতাল বিরোধী মিছিল-শ্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে উঠে। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক মিছিল আসতে থাকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। যুবলীগ নেতৃত্বাধীন যুব সংগ্রাম পরিষদ জামায়াত-শিবিরের হরতাল, হত্যা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে রাজধানীতে মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে। বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সামনে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয় মিছিলটি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুব সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ, জাতীয় যুবজোটের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন, যুবমৈত্রীর সভাপতি মোস্তফা আলমগীর রতন, সাধারণ সম্পাদক সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, যুব আন্দোলন সভাপতি মোশাহিদ আহমেদ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। সমাবেশ পরিচালনা করেন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা।
এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি হরতাল বিরোধী মিছিলও রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপু, সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, খায়রুল হাসান জুয়েল প্রমুখ।
