ওরা ৭১ জন তরুণ-তরুণী, অনেকের বয়স ত্রিশের কোঠায়। দীর্ঘ দু’বছরের অপেক্ষা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা শেষে গতবছরের নভেম্বরে ওরা বাগেরহাট স্বাস্থ্য বিভাগে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পায়। কিন্তু মাত্র সাড়ে তিন মাসের ব্যবধানে আকস্মিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সে নিয়োগ বাতিল করে। সেইসাথে ৭১টি জীবনের স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটে। গত রোববার তাদের আর নিজ কর্মস্থলে উপস্থিতি স্বাক্ষর করতে দেয়া হয়নি। এই অবস্থায় ঐ ৭১ জন কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়ে প্রথম থেকেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে আসছিলেন। তারাই রাজনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই নিয়োগ বাতিল করে ৭১টি পরিবারের স্বপ্ন ধ্বংস করেছেন। এই প্রতিনিধির কাছে নিজেদের হতাশার কথা বলতে যেয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ইয়ামিন নামে চাকরি হারানো এক ওয়ার্ডবয় বলেন, ‘শুনেছি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছু বিধি মানা হয়নি বলে নিয়োগ বাতিলের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন কিছু হয়ে থাকলে সেজন্য তো আমরা দায়ী না। ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বিভিন্ন পদে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ৭১ জন কর্মচারী নিয়োগের জন্য বিধি মোতাবেক আবেদন চাওয়া হয়।
দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস পর চৌদ্দশ’ আবেদনকারীর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গতবছরের ২১ সেপ্টেম্বর। পর্যায়ক্রমে মৌখিক পরীক্ষা শেষে গতবছরের ৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার চূড়ান্তভাবে মনোনীতদের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ১১ নভেম্বর রোববারের মধ্যে কাজে যোগদানের জন্য জানিয়ে দেয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্তরা কাজে যোগদানের পর গত নভেম্বর মাস থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত স্ব স্ব কর্ম এলাকায় কাজ করেছেন এবং বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মো. বারিক হোসেন জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফ্যাক্সযোগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব রেজওয়ানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশ আমার কার্যালয়ে পৌঁছায়। আদেশে বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয় ও অধীনস্থ দপ্তরের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর ৭১ জন কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম থাকায় নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়। আদেশ পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি সংশ্লি¬ষ্ট সকল দপ্তরকে চিঠি দিয়ে অবহিত করেছি। নিয়োগ বাতিল হওয়া এই ৭১ জনের মধ্যে ১৪ জন ৩য় শ্রেণীর এবং ৫৭ জন ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী রয়েছেন।
