রাজধানীতে হরতালে বিস্ফোরিত ককটেল তৈরির প্রধান উপাদান সালফারের অবৈধ বিক্রেতাদের তালিকা নিয়ে মাঠে নেমেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসব অবৈধ সালফার বিক্রেতার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও পেয়েছে ডিবি।
ককটেল তৈরির কারিগরদের কাছে হরতালের আগেই ককটেল তৈরির অর্ডার দেয়া হয়। আর ঐ ককটেল বা বোমা তৈরির কারিগররা এসব অবৈধ সালফার বিক্রেতার কাছ থেকে মূল উপাদান সালফার কিনে নেয়। অবৈধ সালফার বিক্রেতার তালিকায় ২৪ জনের নাম রয়েছে বলে ডিবি জানিয়েছে।
ডিবি জানায়, জামায়াতে ইসলামীর ৪৮ ঘণ্টা ও বিএনপির সকাল-সন্ধ্যা হরতালে ঢাকাসহ সারাদেশে সহস্রাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। অতীতের যেকোন হরতালে এত ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেনি। লাল টেপ দিয়ে প্যাঁচানো এসব ককটেলে বিস্ফোরণের ভয়াবহতা তেমন না থাকলেও তাতে প্রচণ্ড শব্দ হয়। এতে চারদিক আতংকের সৃষ্টি হয়। হরতালে ঢাকা বাদে ৬৩ জেলায় গড়ে ১৫টি করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালে ২৫ থেকে ৩০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। ঢাকায় হরতালে অর্ধশতের বেশি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ পরীক্ষা করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন জানান, এসব ককটেল তৈরির প্রধান রাসায়নিক উপাদান হচ্ছে সালফার ও পটাশিয়াম। এই দুইটি রাসায়নিক উপাদানের সমন্বয়ে বিস্ফোরণের সময় আরো একটি রাসায়নিক যৌগ তৈরি হয়। তবে ককটেলের মধ্যে এই রাসায়নিক উপাদান ছাড়াও কাঁচের গুঁড়া, বাইসাইকেলের বিয়ারিং-এর বল ও মার্বেল ব্যবহার করা হয়।
ডিবি জানায়, চিহ্নিত বোমা তৈরির কারিগররা এসব ককটেল তৈরি করেছে। বিশেষ করে ছিনতাই ও ডাকাতির জন্য এসব কারিগররা ককটেল তৈরি করে। পুরান ঢাকার বংশাল, গেন্ডারিয়া, জুরাইন, উত্তর যাত্রাবাড়ী, তেজকুনীপাড়া, নাখালপাড়া, মিরপুরের গড়ান চটবাড়ী, মাজার রোড, বশিলা, সানারপাড়, চকবাজার, কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর ও হাজারীবাগ এলাকায় বেশিরভাগ ককটেল তৈরি হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অবৈধ সালফার বিক্রেতার একটি তালিকা করেছে। এই তালিকায় ২৪ জনের নাম রয়েছে। এ ব্যাপারে ডিবির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন জানান, অবৈধভাবে সালফার বিক্রির প্রমাণ পুলিশের কাছে আছে। এসব বিক্রেতারা পরিকল্পিতভাবে ঐসব বোমা তৈরির কারিগরের কাছে সালফার বিক্রি করেছে। এর পাশাপাশি তারা পটাশিয়ামও বিক্রি করেছে। হরতালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এসব সালফার বিক্রেতাদের আসামি করা হবে। কারণ ককটেল বা বোমা কারা তৈরি করছে এই বিষয়টি অবৈধ সালফার বিক্রেতারা জানতেন। এই ২৪ অবৈধ সালফার বিক্রেতাকে খুব শিগগির গ্রেফতার করা হবে।
