লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ও হাতীবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত চোরাইপথে আসছে ভারতীয় গরু। এসব গরু অবৈধভাবে নিয়ে আসার জন্য রয়েছে একটি বিশাল সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেট চালাচ্ছে জমজমাট ভারতীয় গরুর ব্যবসা। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা ভাগা-ভাগি করে নিচ্ছে ওই সিন্ডিকেট। এতে সরকার প্রতিমাসে প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। সূত্রমতে, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের দইখাওয়া এলাকার আমঝোল, ঘুটিয়ামঙ্গল, বনচৌকিসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারতীয় গরু বাংলাদেশে আসছে। নিয়ম অনুয়ীয় ভারত থেকে গরু আনতে হলে করিডোর করতে হবে। এজন্য জেলার পাটগ্রাম উপজেলার ইসলামপুরে একটি করিডোর স্থাপনও করা হয়েছে। কিন্তু গোটা সীমান্তে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করায় গরুর কোন করিডোর করা হচ্ছে না। প্রতিটি গরুর করিডোর করা হলে সরকার পেত ৫শ’ টাকা। অথচ এ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার আর লাভবান হচ্ছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল এলাকার গরু ব্যবসায়ী সোলেমান, আমজাদ হোসেন, মোখলেছার রহমান জানান, করিডোর না করে গরু প্রতি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবিকে ২শ’ টাকা, পুলিশ ৬০ টাকা, ইউনিয়ন পরিষদকে ৬০ টাকা, আনসার ভিডিপিকে ১০ টাকা করে দিতে হয়। বিজিবি সদস্যরা রাতে এসে এসব গরুর হিসাব করে যায়। পরে তাদের লাইনম্যান এসে এসব টাকা আদায় করে। প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক টাকা লাইনম্যানের মাধ্যমে চলে যায় সিন্ডিকেটের সদস্যদের পকেটে। সূত্রমতে, ওই সীমান্তগুলো দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ শ’ ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করে। করিডোর না হওয়ায় এতে প্রতিমাসে সরকার প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
