ভৈরব ব্রহ্মপুত্র এখন মরা খাল

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২১:২০
এককালের উত্তাল ব্রহ্মপুত্র নদ এখন যৌবনহারা শীর্ণ মরা খাল। যে নদের উত্তাল ঢেউ ছাপিয়ে যেত দু’কূল, আজ সে ভরা বর্ষাতেও উত্তালহীন। প্রশাসন ও সরকারি দলের সহযোগিতায় নদের চর জবরদখল নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। খননের অভাবে প্রতিনিয়ত উজান থেকে আসা পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র। পানি শূন্য ব্রহ্মপুত্রের অংশ জেগে উঠছে সেখানেই হামলে পড়ছে ভূমি আগ্রাসীচক্র। ফলে ব্রহ্মপুত্রের নৈসর্গিক পরিবেশই কেবল বিপন্ন হয়নি, বিপন্ন হয়ে পড়েছে এর অস্তিত্ব। পৃথিবীর অন্যতম প্রধান ও প্রাচীন ব্রহ্মপুত্র নদ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম নদী। এমনকি গঙ্গার চেয়েও প্রাচীন। হিমালয় উত্থানের বহু পূর্বেও ব্রহ্মপুত্র এ উপমহাদেশে প্রবাহমান ছিল। এর প্রশস্ততা ছিল ৮/৯ মাইল, আজ তা ভরাট হয়ে স্থান ভেদে ১/২শ’ মিটারে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে এর নাব্য ও চঞ্চলতা। তাছাড়া ১৯৫৯, ১৯৬১, ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে সরকার পুরানো ব্রহ্মপুত্রের বহুমুখি প্রকল্প হাতে নিয়েও তা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেনি। উপজেলার কালিকাপ্রসাদ কুমিরমারা গ্রামের জেলে নারায়ণ চন্দ্র বর্মণ(৫৭) ব্রহ্মপুত্রকে ঘিরে তার জীবনকাহিনী জানালেন— তিন পুরুষ ধরে এ নদে মাছ ধরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। নারায়ণের স্বর্গীয় দাদা ভূলা চন্দ্র বর্মণ, বাবা স্বর্গীয় চপ্পল চন্দ্র বর্মণও ছিলেন এ পেশায়। ১০/১২ বছর বয়স থেকে বাপ-দাদার এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছিল। ফাল্গুন-চৈত্র মাসের খরতাপে নদে অথৈ জল থাকতো আর তখন জাল টেনে, খেও দিয়ে ও ঘের পাতাসহ নানা কৌশলে মাছ ধরতেন। সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট এলাকার এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল ব্রহ্মপুত্রকে অবৈধ দখল প্রক্রিয়ায় গ্রাস করছে। শহর-বাজার এলাকায় ভরাট করে স্থাপনা গড়ে তুলছে। যে সব জায়গায় কিছুটা পানি রয়েছে সেখানেও বাঁধ সৃষ্টি করে মাছ বা হাঁসের খামার করা হয়েছে। কেউ কেউ আবার নদের মাঝেই জেগে ওঠা চরে ইটের ভাটা গড়ে তুলেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এ অবস্থা বিরাজমান।