ফণী বিলীন হলো আসামে

আপডেট : ০৫ মে ২০১৯, ০০:৩৬

ঘূর্ণিঝড় ফণী দুর্বল হতে হতে উত্তর-পূর্ব ভারতের আসামে গিয়ে গতকাল শনিবার মধ্যরাতের আগেই বিলীন হয়ে গেছে। এক সপ্তাহ রুদ্ধশ্বাস উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার পর মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। ওড়িশা লন্ডভন্ড করে গতকাল বাংলাদেশে স্থল নিম্নচাপের আকারে এসে যেটুকু ঝড়-বৃষ্টি দিয়েছে তাতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম নয়। বিশেষ করে খুলনা-সাতক্ষীরা-বাগেরহাট-ভোলাসহ দক্ষিণ উপকূলবর্তী এলাকায় নদ-নদীর পানি বেড়ে বাঁধ ও ফসলাদির ক্ষতি করেছে।

ভারত মহাসাগরে সুমাত্রার পশ্চিমে বিষুবরেখার কাছাকাছি এলাকায় লঘুচাপ গত ২৬ এপ্রিল নিম্নচাপে রূপ নেয়। এরপর তা পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে হতে দুই দিনের মাথায় পরিণত হয় মৌসুমের প্রথম ঘূর্ণিঝড়ে। এর নাম আগেই ঠিক করে রাখা ছিল ফণী, যা ছিল বাংলাদেশের প্রস্তাব। টানা পাঁচ দিন পানিতে থেকে শক্তি সঞ্চয় করে সুপার সাইক্লোনে রূপ পরিগ্রহ করে। অস্থির গতিপথ ধরে অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোতে থাকা এ ঘূর্ণিঝড় ওড়িশায় ছোবল হানতে স্থলভাগে ওঠার পর শক্তিহীন হয়ে পড়ে। ভারতের স্থলভাগে দুই দিন থাকার পর গতকাল বাংলাদেশের ভূখণ্ডে যখন আসে তখন ফণী ছিল সাধারণ ঘূর্ণিঝড়-স্থল নিম্নচাপের আকারে। ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ৬২ কিলোমিটারের মতো, যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল। তখনো এটি ঘূর্ণিঝড়ের পর্যায়েই ছিল, তবে ছয় ঘণ্টার মধ্যে শক্তি ক্ষয়ে লঘুচাপে পরিণত হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, রাতে ফণী বাংলাদেশের বাইরে চলে গেছে। আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন জানান, ফণী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল দুর্বল অবস্থায় খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর  ও কুষ্টিয়া দিয়ে। পরে এটি পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং এর আশপাশের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে আসামের দিকে চলে গেছে। ওখানেই সে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিলীন হয়ে যায়।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে চলে যাওয়ায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠা কয়েক লাখ মানুষকে বলা হয়েছে ঘরে ফিরতে। সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের সর্বশেষ বুলেটিনে বলেছে, ফণীর কারণে বায়ুচাপের তারতম্য এবং অমাবশ্যা সমাগত বলে উপকূলীয় জেলাগুলোতে দুই  থেকে চার ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। আজ রবিবার কোথাও  কোথাও বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে ফণীর পর আগামীতে যে ঘূর্ণিঝড় আসবে তার নাম ঠিক করে রাখা হয়েছে ‘ভায়ু’। তারপরে আরো ছয়টি ঝড়ের নাম চূড়ান্ত রয়েছে। ভায়ু নামটি দিয়েছে ভারত। এরপর আসতে থাকবে- হিকা (মালদ্বীপ), কিয়ার (মিয়ানমার), মহা (ওমান), বুলবুল (পাকিস্তান), পাবান (থাইল্যান্ড), আম্ফান (শ্রীলঙ্কা)। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক কমিটি একেকটি ঝড়ের নামকরণ করে। আর প্রস্তাব দেয় ভারত মহাসাগরের সন্নিহিত আটটি দেশ। এদিকে আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন জানান, ফণীর পরের ঘূর্ণিঝড় ভায়ু। এই ভায়ু হয়তো অক্টোবর-নভেম্বরে সৃষ্টি হতে পারে। কারণ তখন বর্ষাকাল পরবর্তী সাইক্লোন সৃষ্টি হয়ে থাকে সাগরে।

জানমালের ক্ষতিতে জেপির শোক ও দুঃখ প্রকাশ

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে জানমালের যে ক্ষতি হয়েছে তাতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে জানমালের ক্ষতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। নেতারা বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাত প্রচণ্ড না হওয়ায় পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করেন।