বরগুনায় স্বামীর নির্যাতনে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন গৃহবধূ

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২১:২৩
বরগুনা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি বরগুনায় যৌতুকের দাবিতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে এখন মৃত্যুর সাথে লড়ছেন গৃহবধূ খাদিজা আক্তার মাসুমা। পাষণ্ড স্বামী শফিকুল ইসলাম ওরফে শিপন সোমবার ডিকেপি সড়কের নিজ বাসায় মাছুমার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। শিপন একপর্যায়ে মাছুমার দু’হাত পেছনে বেঁধে গলায় ফাঁস লাগায়। এতে তার মৃত্যু হয়েছে মনে করে ঘরের দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যায় শিপন। ছেলেরা এসে মায়ের এ অবস্থা দেখে তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে মাছুমা আশংকাজনক অবস্থায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। জানা গেছে, পাথরঘাটা উপজেলার বেতমোড় গ্রামের নুরুল হক হাওলাদারের মেয়ে খাদিজা আক্তার মাছুমার সঙ্গে ১৬/১৭ বছর আগে মঠবাড়িয়া উপজেলার বেচকি গ্রামের পান্না মিয়ার ছেলে সফিকুল ইসলাম শিপনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তিন পুত্র সন্তানের জননী মাছুমার সংসার ভালই চলছিল। প্রবাসে চাকরি শেষে কয়েক বছর আগে দেশে ফিরে শিপন। এরপর থেকে সে নারী, মদ, গাঁজা ও জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে। একে একে সে ছয়টি বিয়ে করে। তারপরেও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বামীর সংসার ছাড়েনি মাছুমা। সম্প্রতি ছোট স্ত্রী হোসনেয়ারা যৌতুক আইনে মামলা করে শিপনের বিরুদ্ধে। এ মামলা থেকে রেহাই পাবার জন্য পাঁচ লাখ টাকা দেয়ার শর্তে আপোষ করে হোসনেয়ারার সাথে। এ টাকার জন্য মাছুমার পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করে। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করায় মাছুমার উপর প্রায়শই নির্যাতন চালাত শিপন। এছাড়াও প্রতিনিয়ত নেশার টাকা চাইত মাছুমার কাছে। এ নিয়ে তাদের সংসারে ঝগড়া-ঝাঁটি লেগেই থাকত। চাহিদা মোতাবেক টাকা না দেয়ায় শিপন মাছুমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এ ঘটনায় মাছুমার বাবা বাদী হয়ে থানায় শিপনসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শীল মনি চাকমা জানিয়েছেন, আসামি ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।