অপশক্তিকে দূর করে অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার প্রত্যয়

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২২:৫২
‘আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে এ জীবন পূর্ণ করো’ গানের সঙ্গে সঙ্গে জ্বলছে অসংখ্য মোমের আলো। আলোর বন্যায় ভেসে উঠলো অগণীত মানুষের মুখ, এক হাত থেকে আরেক হাত, ছড়িয়ে পড়লো আলোর স্ফূরণ। আলোর শক্তিতে অপশক্তি দূর করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে এক হলো সবাই। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গতকাল সন্ধ্যায় এই কর্মসূচি পালন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। কর্মসূচি থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্পদায়ের মানুষের বাড়িঘরে হামলা ও ধর্মীয় উপাসনালয় পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য ধিক্কার এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশভাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে সম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছে। এই অপতত্পরতার সঙ্গে বরাবরই জামায়াত-শিবির চক্র জড়িয়ে ছিল। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের মৌল চেতনা হচ্ছে অসাম্প্রদায়িকতা। এই অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমুন্নত রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ঝুনা চৌধুরী, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকামউল্লাহ, পথনাটক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর, কবি ড. মুহম্মদ সামাদ প্রমুখ । আলোক প্রজ্জলন শেষে শাহবাগ আন্দোলনের উপর গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন নির্মিত একটি পথনাটক মঞ্চস্থ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের মৃত্যু সংবাদ এসে পৌঁছালে এক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করা হয়।