সহিংসতার পথ পরিহার করুন

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৩, ২২:৫৫
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম পীরসাহেব চরমোনাই বলেছেন, স্বাধীনতার পর বিগত ৪২ বছরে সারাদেশে এতো ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা আর ধ্বংসযজ্ঞ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেনি। এ ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে দেশবাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে চরম আতংক আর নিরপত্তাহীনতা। জাতীয় উন্নয়ন আর অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা এবং বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা শান্ত হোন। সহিংসতা আর বিশৃঙ্খলার পথ পরিহার করুন। আপনারা বাস্তবতা উপলব্ধি করুন। মানুষের জীবন-সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দেশের সম্পদ নষ্ট হয় এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকুন। আপনাদের বুঝা উচিত আপনারা আইনি প্রক্রিয়াকে মেনে নিয়ে আদালতে মোকাবেলা করছেন। গতকাল বুধবার আইএবি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি সফল করার আহ্বান জানান। আজ বিকাল ৩টায় রাজধানীতে হাউজ বিল্ডিং চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। আর কর্মসূচির শেষ দিন আগামী ২৯ মার্চ রাজধানীতে মহাসমাবেশ করা হবে। পীরসাহেব চরমোনাই বলেন, গত এক সপ্তাহে সারাদেশে নারী-শিশু ও পুলিশসহ প্রায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়েছে। অসংখ্য মানুষ গ্রেফতার হয়েছে। সারাদেশে অসংখ্য ঘর-বাড়ি দোকান-পাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগসহ ধ্বংস করা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর, ধর্মীয় উপাসনালয়সহ কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হয়েছে। এ অবস্থায় গোটা জাতি আজ স্তম্ভিত ও আতংকিত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান, নাগরিকদের মধ্যে ঐক্য সংহতি ও সহিষ্ণুতার মনোভাব জাগিয়ে তোলা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দায়িত্ব সরকারের। আমরা বারবার বলেছি, প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই। যুদ্ধাপরাধীদের ইনসাফপূর্ণ বিচার হলে জাতি উপকৃত হবে। প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না এমন কথা এদেশে কেউ বলেছে বলে আমাদের জানা নেই। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামীকাল শুক্রবার রাজধানীতে ওলামা-মাশায়েখ ও সূধীদের সাথে মতবিনিময়, ১০ মার্চ সকল পেশাজীবী, রাজনীতিবিদদের সমন্বয়ে গোলটেবিল বৈঠক, ১২ মার্চ দেশব্যাপী সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ, ১৩ মার্চ স্পিকার বরাবর স্মারকলিপি পেশ, ১৮ মার্চ বিকাল ৩ টায় রাজধানীতে গণমিছিল, ২৩ মার্চ রাজধানীতে ওলামা সম্মেলন। সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, ডা. মোখতার হোসাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।