এইচএসসি পরীক্ষা ২০১৩

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৩, ১৭:১৪
তোমাদের শিক্ষাজীবনে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর তোমাদের উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ নির্ভর করছে। মনে রাখবে, দুই বছর ধরে যে বিষয়গুলো পড়েছ এবং নিজের মনের মতো করে আয়ত্ত করেছ। কোনো প্রশ্নের বিষয়গত ধারণা হয়তো খুব ভালো হয়েছে, কিন্তু খাতায় প্রশ্নগুলোর উত্তর উপস্থাপন করতে না পারলে কোনো লাভ নেই। এ ক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান শুধু জ্ঞান হিসেবেই থাকবে, ভালো ফলাফল অর্জনে কোনো প্রকার সহায়তা করবে না। শিক্ষক যদি তোমার অর্জিত জ্ঞান মূল্যায়নের সুযোগ না পান, তবে ভালো ফলাফলের কোনো সুযোগ থাকছে না। কাজেই খুব সাবধানতার সঙ্গে বর্তমান সময়কে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাবে। অভিভাবকদের বলছি, পরীক্ষার আগে এবং পরীক্ষা চলাকালীন আপনাদের সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের খুবই দরকার। মনে রাখবেন, শিক্ষার্থীরা যতটুকু প্রস্তুতি নিয়েছে, তাতেই ভালোফল করতে পারে, যদি তাকে উত্সাহ প্রদান এবং তার মধ্যে সাহস সঞ্চার করা যায়। অনেক শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ামাত্রই ভালোভাবে প্রশ্নপত্র না পড়ে, না বুঝে উত্তর লিখতে শুরু করে। প্রশ্ন পাওয়ার পর প্রথম কাজ হলো, প্রশ্নে কোন ধরনের উত্তর চাওয়া হয়েছে ভালোভাবে তা বুঝে নেওয়া। এর পরের কাজ হলো, কোন কোন প্রশ্নের উত্তর তুমি ভালো লিখতে পারবে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া। প্রশ্নটি ভালোভাবে পড়ে ভালো জানা প্রশ্নটির উত্তর যদি প্রথমেই দাও, তাহলে মূল্যায়নকারী শিক্ষক প্রথম প্রশ্নটি মূল্যায়নের সময়ই তোমার সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা পাবেন। প্রথম কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর ভালো এবং পরের উত্তরগুলো তুলনামূলকভাবে কিছুটা খারাপ হলেও শিক্ষকের বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হবে না। প্রথমে সৃষ্টি হওয়া ধারণাটিই বজায় থাকবে। ফলে তুমি ভালো নম্বর পাবে। তোমরা পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর সেটি উত্তরের ধরন বোঝার জন্য পাঁচ-সাত মিনিট সময় ব্যয় করবে। এই সময়টিকে খুবই সতর্কতার সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে। যেমন ধরো, প্রশ্নপত্রের প্রশ্নের ক্রমবিন্যাস অনুসারে তুমি হয়তো ৫ নম্বর প্রশ্নটির উত্তর ভালো জানো। তুমি খাতায় উত্তর দেওয়ার ক্রমবিন্যাস অনুসারে এই প্রশ্নটির পাশে লিখে রাখতে পারো ১। তুলনামূলকভাবে যেটি কম ভালো পারো সেটির পাশে ২। এভাবে যতগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে তা পর্যায়ক্রমে তোমার মতো করে সাজিয়ে নিতে পারো। যে প্রশ্নের উত্তর কম জানো, সেটি সবার শেষে লিখবে। কোন প্রশ্নটির উত্তর দিলে তোমার জন্য ইতিবাচক হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য অবশ্যই কিছু সময় ব্যয় করতে হবে।মনে রাখতে হবে, ‘জিপিএ-৫ বা ভালো গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রধান লক্ষ্য এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তোমরা যেন মনে না করো এটাই অর্জনের একমাত্র জায়গা। তোমাদের অবশ্যই সার্বিকভাবে ও নিরন্তর জ্ঞানের চর্চা করতে হবে। যে বিষয়ে পড়াশোনা করছ, সঠিকভাবে অর্থ বুঝে পড়লে বাস্তব-জীবনে শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এবং প্রয়োগ করতে পারবে।