আবার সেই রূপে সাঙ্গাকারা

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৩, ২১:২৬
টু কি টা কি এটি ছিল কুমার সাঙ্গাকারার ৩১তম সেঞ্চুরি। এখন তিনি বন্ধু মাহেলা জয়াবর্ধনের সঙ্গে যৌথভাবে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান। বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক সাঙ্গাকারা। আজকের ম্যাচের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে হাজার রান করা প্রথম ব্যাটসম্যান হলেন সাঙ্গাকারা। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭৮.৩০ গড়ে ১০১৮ রান করেছেন তিনি। এই নিয়ে নবমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসের প্রথম চারটি জুটিতেই পঞ্চাশোর্ধ রান তুললো শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার কাজটি করল তারা। গতকাল ৪.২২ গড়ে রান তুলেছে শ্রীলঙ্কা; ২০০০ সালের পর এটি শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো শ্রীলঙ্কার প্রথম তিন বা তার বেশি ব্যাটসম্যান পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেললেন। নিপাট ভদ্রলোক, মুখে সবসময় হাসি লেগে থাকে। যখন ক্রিকেট নিয়ে কথা বলেন, মনে হয়—কোনো অধ্যাপক ক্লাস নিচ্ছেন। ক্রিকেট জ্ঞান, ভদ্রতা, বিনয়ের জন্য এমনিতেই ক্রিকেট বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় মানুষ। কিন্তু তিনিই যখন ব্যাট হাতে নামেন, এই ভদ্রতার পোশাকটা যেন ড্রয়ারে তুলে রেখে আসেন। হয়ে ওঠেন ত্রাস সৃষ্টিকারী এক ব্যাটসম্যান—এ যুগের অন্যতম গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারা। ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা ভদ্রতা ঝেড়ে ফেলে কতোটা ত্রাস হয়ে উঠতে পারেন, তা সবচেয়ে ভালো জানে বাংলাদেশের বোলাররা। কি বিচিত্র ধারাবাহিকতা! ইনজুরি থেকে ফিরেই প্রথম ইনিংসটা খেলতে নামলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। সেই সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশি বোলারদের আরেকবার নিজের নৃশংস রূপটা দেখিয়ে দিলেন সাঙ্গাকারা। শ্রীলঙ্কার ৩ উইকেটে ৩৬১ রানের বিশাল পুঁজি গড়ে উঠল মূলত সাঙ্গাকারার ১৪২ রানের ইনিংস কেন্দ্র করেই। গত ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মেলবোর্ন টেস্টে ইনজুরিতে পড়েছিলেন। সেই থেকে ক্রিকেটের বাইরেই ছিলেন। নিজেই বলছিলেন, ম্যাচ প্র্যাকটিসের খুব অভাব থেকে গেছে। সেজন্য বাংলাদেশের বিপক্ষে অনুশীলন ম্যাচটায় খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সিনিয়র ক্রিকেটারদের বোর্ডের মতানৈক্যের ফলে সে ম্যাচ খেলতে পারেননি। কিন্তু গতকাল তার ব্যাটিং দেখে একবারের জন্যও মনে হল না যে, ম্যাচ প্র্যাকটিস না হওয়ায় কোনো ক্ষতি তার হয়েছে। গতকালকের ইনিংস খেলার ভেতর দিয়ে সুনীল গাভাস্কারকে হটিয়ে এখন টেস্ট ক্রিকেটের দশম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সাঙ্গাকারা। সেইসঙ্গে ৩১তম এই সেঞ্চুরি করে মাহেলা জয়াবর্ধনের সঙ্গে যৌথভাবে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিরও মালিক তিনি। এসব রেকর্ডের প্রসঙ্গ উঠতেই সাঙ্গাকারা স্বভাবসুলভ বিনয়ে নত হয়ে গেলেন, ‘এসব রেকর্ড দেখে আমাকে ওই উচ্চতায় তোলার কোনো কারণই নেই। মাহেলা অনেক বড় ব্যাটসম্যান। ওর সঙ্গে যৌথভাবে রেকর্ডের মালিক হতে পারাটা অনেক গর্বের একটা ব্যাপার।’ গর্বের ব্যাপার। তবে গর্ব করাটা তার ধাতে নেই। তাই দিনের খেলা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে নিজের চেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিলেন দিলশানের ফিফটিকে বা তরুণ থিরিমানের ফিফটিকে। বলছেন, এ দুজনই আসলে বড় ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়েছেন। নিতান্ত নিজের ইনিংসের প্রশ্ন এলে বললেন, ‘আমি ইনজুরি থেকে ফিরে মাত্র দু-তিন দিন নেটে ব্যাট করতে পেরেছি। এখানে উইকেট ভালো ছিল। ভাগ্যেরও সহায়তা পেয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা, খুব পরিশ্রম করতে হয়েছে।’ তবে চোখের সামনেই দেখেছেন, বাংলাদেশ দলকে কেমন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হচ্ছে একটা উইকেটের জন্য। ব্যাটিং উইকেটের কারণে বোলারদের পরিশ্রম একটু বেড়ে গেছে বলে মানছেন সাঙ্গাকারা। তবে বাংলাদেশের বোলিং বিভাগটাকেও আগে-পরের চেয়ে একটু বেশি দুর্বল মনে হচ্ছে তার কাছে, ‘দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা খেলতে না পারাটাই বাংলাদেশের জন্য সমস্যা। বিশেষ করে পেস এ্যাটাকে যদি মাশরাফি থাকতো বাংলাদেশের বোলিংয়ের আক্রমণটা অন্যরকম হত বলে মনে হয়। আর দলে প্রতিভাবান স্পিনার সাকিবও নেই। এটাই ওদের সবচেয়ে বড় বিপদ হয়েছে। তাই বাংলাদেশ পুরো শক্তি নিয়ে বল করতে পারেনি। তবে আবুল হাসানকে মনে হয়েছে তার বলে পেস আছে। তার ভবিষ্যত্ আরো ভালো হবে।’