ভৈরবে চাতাল কন্যাদের জীবনকথা

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৩, ২১:৪৫
ভৈরবে অর্ধশতাধিক ছোট-বড় চাতালে আড়াই হাজারেরও বেশি নারী শ্রমিক কাজ করেন। ধান থেকে চালে রূপান্তরের প্রতিটি ধাপে তাদের ঘাম ঝরানো শ্রম থাকে বলে স্থানীয়ভাবে তারা চাতাল কন্যা হিসেবে পরিচিত। তাদের হাড়ভাঙ্গা শ্রমের মূল্য দিনে মাত্র ৩০-৪০ টাকা। সামান্য এ উপার্জনে তাদের জীবন আটকে আছে অভাব আর অনটনে। ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র নারীরা ভৈরবের বিভিন্ন বয়লারে কাজ নেন। চাতালের প্রতিটি স্তরে তারা দলবদ্ধভাবে কাজ করেন। প্রতিটি চাতালে ৪০ জন নারী শ্রমিকের পাশাপাশি ১৫-১৬ জন পুরুষ কাজ করেন। একজন সর্দারের অধীনে ধান শুকানো, ধান ভাঙ্গানো, চাল করে বস্তাবোঝাই করা নারী শ্রমিকদের প্রধান কাজ। চাতালে ধান আনা, ধান ছড়ানো ও সেদ্ধ করার কাজে পুরুষ শ্রমিকরা বেশি থাকলেও সব স্তরেই নারী শ্রমিকরা অংশ নেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এর মাঠ ধান উঠলে গড়ে দু’দিন সময় লেগে যায়। প্রতিমণ ধান সেদ্ধ করে সাড়ে ১০ টাকা, আতপ চাল ১২ টাকা এবং বয়লারে কাজ করে তারা ১৫ টাকা হারে পারিশ্রমিক পান। বরিশালের রত্না বেগম ও নূরুন্নাহার বলেন, তাদের শ্রমে বয়লার মালিকরা আরামে থাকলেও ঈদ ছাড়া তাদের চুলায় মাংস রান্না হয় না। তাদের জীবনে নেই কোন আনন্দ। দিনে ৩০-৪০ টাকা আয় দিয়ে সংসার চালানো খুবই কঠিন। তাছাড়া অমৌসুমে বয়লার মালিকদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আগাম শ্রম বিক্রি করতে হয়।