ঘরকে বলা হয় প্রথম পাঠশালা আর আমি বলব- শুধু প্রথম নয়, প্রথম এবং প্রধান পাঠশালা। যেখানে অভিভাবকগণ শিক্ষার্থীর একমাত্র শিক্ষক, বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষী। সন্তান বা স্বজন ছাত্রছাত্রীদের জীবনের উন্নতিকল্পে অভিভাবকগণ সবসময় সচেতন থাকেন। তবে যেকোন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময় এ দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেকাংশে বেড়ে যায়। তাই প্রিয় সন্তান বা স্বজন পরীক্ষার্থীটি শুধু পরীক্ষার হলে গিয়ে পরীক্ষা দিলেও অভিভাবকগণ পরীক্ষা দেন সর্বত্র।
অবশ্যই পরীক্ষার্থীকে মানসিক সমর্থন যোগাতে হবে। অভিভাবকগণ এ সময় পরীক্ষার্থীকে মানসিকভাবে পূর্ণ প্রস্তুত রাখতে পারলে অনেকটা ভালো রেজাল্ট অর্জন সম্ভব। অনেক পড়াশুনা বা অনেক ভালো প্রস্তুতি থাকার পরও আশানুরূপ জিপিএ আসে না। এর নিগূঢ় কারণ সাধারণত পরীক্ষর্থীর মানসিক প্রস্তুতির অভাব। তোমাকে পারতেই হবে; এরকম মানসিক চাপে না রেখে তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলুন , তুমি পারবে। আর একটু মন দিয়ে চেষ্টা কর। তুমি অবশ্যই পারবে।
তোমাকে এরকম রেজাল্ট করতেই হবে। খুব ভালো না করলে শাস্তি পাওয়ার হুমকি অথবা তোমাকে দিয়ে কিছুই হবে না -এ ধরনের কথা পরীক্ষার্থীর মনে হতাশার জন্ম দিতে পারে। অভিভাবকদের উচিত হবে আশা ব্যঞ্জক কথাবার্তা বলা। এতে সে উত্সাহিত হবে। অভিভাবকদের এই আশাপ্রদ কথাটুকু পরীক্ষার্থীর জন্য এতটাই প্রয়োজন যে - একটু কম প্রস্তুতিতেও ভালো একটি ফলাফল সম্ভব। অর্থাত্ এসময়টুকুতে পরীক্ষার্থীর জন্য অভিভাকদের ভালো ব্যবহার ক্লান্ত শ্রমিকের দীর্ঘ প্রত্যাশিত এক কাপ চায়ের মতো। যার প্রতি চুমুকে সে নিজের ভিতরকার ঘুমন্ত সম্ভাবনাটাকে আরও জাগিয়ে তুলবেন।
সব ভালো যার শেষ ভালো তার। তাই পরীক্ষার বাকী দিনগুলো পরীক্ষার্থীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন রকম অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বয়ে আনতে পারে বিপর্যয়।
