আইডিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (আইসিএল) সবগুলো অফিসে তালা ঝুলছে। গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে এর চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অন্যান্য পরিচালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আইসিএল’র শুধুমাত্র নগরীর কান্দিরপাড়ের এ শাখা থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে গ্রাহকের কমপক্ষে একশ’ কোটি টাকা। শুধু এ শাখার মাধ্যমে কয়েকশ’ গ্রাহকের আমানতকৃত প্রায় শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। নগরীর এসব শাখা ও চৌদ্দগ্রামে আইসিএল’র বিভিন্ন শাখা অফিসসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার সংলগ্ন প্রধান কার্যালয়ের দরজায় তালা দেখে গ্রাহকরা হতাশ হয়ে পড়েন এবং তারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের আমানত ও ডিপোজিটের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় নিঃস্ব হওয়ার কথা জানান। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানায়, প্রতি লাখে ২ হাজার টাকা লভ্যাংশ (সুদ) দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহক আকৃষ্ট করে এসব টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর গত ৪ মাস ধরে লভ্যাংশ না দিয়ে দেব-দিচ্ছি বলে ওই গ্রাহকদের ঘুরাতে থাকে। এতে ওই গ্রাহকরা আইসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এইচ.এন.এম শফিকুর রহমানের দ্বারস্থ হলে তিনি ওই গ্রাহকদের টাকা ফেরত ও লভ্যাংশ প্রদানের আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন এবং দেশের নামকরা ব্যক্তি ও প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সবাই তার প্রতিষ্ঠানে টাকা ডিপোজিট রেখেছে এসব কথা বলে গ্রাহকদের আস্থা সঞ্চয়ের চেষ্টা করেন। এদিকে এ ঘটনায় ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা ডিপোজিটকারী নগরীর বাদুরতলা এলাকার সায়েদা খানমের স্বামী টাকার শোকে হূদরোগে আক্রান্ত হন এবং একপর্যায়ে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে তিনি চিকিত্সাধীন আছেন। এমডি শফিকুর রহমানের মোবাইল ফোনে (০১৯৭৯-৪০২৮০৯) ও জিএম মঞ্জুরে মাওলার মোবাইল ফোনে (০১৫৫৩-২৫২২৩০) কল করেও মোবাইল বন্ধ রাখায় কথা বলা যায়নি।
২০০১ সালের ১৩ মার্চ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আইসিএল যাত্রা শুরু করে। গত কয়েক বছর যাবত্ হঠাত্ করেই ওই প্রতিষ্ঠানের রমরমা ব্যবসা-বাণিজ্যের আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে। সমবায়ের আদলে ওই প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকিং লেনদেন শুরু করে দেয় এবং উচ্চহারে লভ্যাংশ দেয়ার প্রলোভনে ডিপোজিটরদের আকৃষ্ট করে। বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়েও গ্রাহক আকৃষ্ট করা হয়। নামি-দামি তারকার মাধ্যমে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত ওইসব বিজ্ঞাপনে জেলার চৌদ্দগ্রামের যে হাসপাতালটির অবকাঠামো ও চিকিত্সা সরঞ্জামাদি দেখানো হয়েছে বাস্তবে এর কোনও মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। সূত্র আরো জানায়, আইসিএলসহ কুমিল্লায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা কো-অপারেটিভগুলোর মধ্যে এফআইসিএল, প্রিভেইল, কনজারভেটিভ, যমুনা মাল্টিপারপাস, জাগো মাল্টিপারপাস, খিদমাহ মাল্টিপারপাস, ওয়াইডিসিএল, সিসিএল, এসডিসিএল, আরডিসিএলসহ কুমিল্লার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা তাদের টাকা ফিরে পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এদিকে, এফআইসিএল নামের মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় দুর্নীতি দমন কমিশনে অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে।
জেলা সমবায় অফিস সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০০০ সালের ১৯ মে পর্যন্ত কুমিল্লায় ১ হাজার ৭৫১টি বহুমুখী/মাল্টিপারপাসের নিবন্ধন দেয়া হয়। বর্তমানে এসবের ১ হাজার ৫০৮টি কার্যকর ও ২৪৩টি অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।
