চিতলমারীতে খালে বাঁধ দেয়ায় কৃষকের ক্ষোভ

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৩, ২১:৫০
বাগেরহাটের চিতলমারীর একটি প্রভাবশালীমহল খালে বাঁধ দিয়ে সরকারি প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ ধরে নিয়েছে। এ ঘটনায় ভরা বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে না পেরে ফুঁসে ওঠে। এ সময় জমিতে সেচ দেয়ার জন্য জবরদখলকৃত খালের বাঁধ কাটতে গেলে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের হামলায় ও সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আগত হয়। এ ঘটনায় চিতলমারী ও মোল্লাহাট থানায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাছুয়ার খাল, খাগড়াবুনিয়া খাল ও শিকদারবাড়ি খাল জনসাধারণের জমিতে সেচের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী রাসেল শিকদার (চিলে) তার লোকজন নিয়ে পুরো জলমহল দখল করেন এবং খাল থেকে পানি ফেলে দিয়ে মাছ ধরতে শুরু করে। পানি সেচের কারণে উক্ত খাল ৩টির দু’পাশে শত শত বিঘা বোরো ধানের সেচের পানি, গবাদি-পশুর পানীয় জলের অভাব ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। সেই সাথে মাছ ও পোনা মাছ সম্পূর্ণ রূপে নিধন হয়েছে। এতে সরকারের কমপক্ষে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন হয়। এ ঘটনায় কলিগাতী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হারুন মোল্লা বাদী হয়ে রাসেলকে (চিলে) প্রধান আসামি করে ১৫ জনের বিরুদ্ধে চিতলমারী থানায় একটি মামলা করেছেন। অপরদিক, খালে বাঁধ দেয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ না দিতে পেরে অসহায় কৃষকরা বাঁধ অপসারণ করতে বিভিন্ন দপ্তর ও ব্যক্তির নিকট ধর্ণা দেন। তাতে ফল না হওয়ায় তারা বাঁধ কাটতে গেলে হামলার শিকার হন। জবরদখলকৃত খালের বাঁধ কাটতে গেলে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের হামলায় ও সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় উল্টো ভুক্তভোগীদের নামে চিতলমারী থানায় রাসেল (চিলে) বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। পরে কৃষকদের পক্ষ থেকে মোল্লাহাট থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুলু বিলকিস বানু অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, ভরা বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে না পেরে যেখানে কৃষক দিশেহারা, সেখানে উল্টো কৃষকের নামেই মামলা। বিষয়টি দুঃখজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে পুলিশ সুপার খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলাগুলো পর্যালোচনা করে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।