মির্জাপুরে পাহারা দিয়েও ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৩, ২১:৫৭
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের এবং ওয়াপদার গ্রাহকরা রাত জেগে পাহারা দিয়েও ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধ করতে পারছেন না। একের পর এক চুরি হয়ে যাচ্ছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার। সংঘবদ্ধ চোরের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে গ্রাহকরা। দীর্ঘদিন ধরে ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক পড়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। সেচের অভাবে কোন কোন এলাকায় চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ নিয়ে শংকিত কৃষক। গত এক বছরে মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কয়েক শতাধিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। পল্লী বিদ্যুত্ অফিস এবং ওয়াপদা অফিস ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকানো ও চুরি বন্ধ করার জন্য গ্রাহকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রান্সফরমারের গায়ে তালা লাগানোর জন্য গ্রাহকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। অতীতের চেয়ে এখন ট্রান্সফরমার চুরি অনেক কমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টসূত্র দাবি করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারিগরিভাবে প্রশিক্ষিত চোরের দল সুকৌশলে একের পর এক বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করেছে, মূল্যবান এই ট্রান্সফরমার চুরির সাথে বিদ্যুত্ অফিসের চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ যোগসাজশ রয়েছে। একেকটি ট্রান্সফরমারের দাম ৩০ হাজার টাকা থেকে ৪ লাখ টাকা বলে গ্রাহকরা জানান। উল্লেখ্য, ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত এ পর্যন্ত ৬/৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার ও সরঞ্জাম উদ্ধারও করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, সাধারণ চোরের পক্ষে ট্রান্সফরমার চুরি করা সম্ভব নয়। এছাড়া ট্রান্সফরমার চুরির পর বিদ্যুত্ বিভাগের লোকজনের সহায়তা ছাড়া ট্রান্সফরমার বিক্রি করাও সম্ভব নয়। কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার বাবদ তাদের ৩০ হাজার টাকা থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়েছে। শুধু জরিমানার কথাই শেষ নয়, বিদ্যুত্ অফিসের কর্মকর্তা -কর্মচারীদের হাতে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকানো বন্ধ করার জন্য এখন গ্রাহকরা গ্রামে গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটির নিচে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে রাত জেগে পালাক্রমে ট্রান্সফরমার পাহারা দিচ্ছে।