প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে রাজবাড়ী প্রাইমারি স্কুল

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৩, ২০:৪৭
প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে একটি দুই চালা টিনের ঘর। আসবাব পত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি চেয়ার, চারটি বেঞ্চ। নেই কোন ব্লাক বোর্ড, সাইন বোর্ড। কাগজে-কলমে ছাত্র শিক্ষক আছে কিনা তারও কোন হদিছ নেই। সমপ্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে কোন ছাত্র-শিক্ষক পাওয়া যায়নি। কাজীপুর উপজেলার এমনি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম ৬৩নং রাজবাড়ী রেজিঃ বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যা সমপ্রতি জাতীয়করণের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্নের পথে। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক স্থানীয় ৭নং খাসরাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এই সুবাদে তাকে ক্লাস নিতে হয় না। তবে ক্লাস না নিলেও বছরের পর বছর বেতন ভাতা তুলছেন। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান পদের সরকারি ভাতাও নিয়মিত তুলছেন তিনি। কাজীপুর উপজেলার চর বেষ্ঠিত খাসরাজবাড়ী ইউনিয়নের এই বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে রাজবাড়ী রেজিঃ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পান একই পরিবারের তিন ব্যক্তি। দুই ভাই এবং এক ভগ্নিপতি। প্রভাবশালী ভাই ভগ্নিপতি শিক্ষক হওয়ার সুবাদে বছরের পর বছর ক্লাস না করে বেতন-ভাতা তুললেও এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগকারী নেই। স্থানীয় অভিভাবকদের অনেকে অভিযোগ করে বলেছেন, সমপ্রতি সরকারিকরণের ঘোষণা করা হলেও এই বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষকই নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত হন না। অনিয়মিতভাবে দুই-একজন শিক্ষক স্কুলে গিয়ে খোলা ঘরটিতে এক সঙ্গে সকল শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীকে মাটিতে বসিয়ে কিছু সময় ক্লাস নিতে দেখা যায়। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ও খাসরাজবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মর্জিনা খাতুন নামের একজন মেয়েকে দিয়ে বদলি শিক্ষক হিসাবে তিনি তার দায়িত্ব পালন করাচ্ছেন। একই সঙ্গে স্কুল এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সরকারি অর্থ গ্রহণ করছেন বলে স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে কাজীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক বলেন, জাতীয়করণের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর তিনি প্রধান শিক্ষক এনামুল হককে শিক্ষকতা অথবা চেয়ারম্যানের যে কোন একটি পদ বেছে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তার কথামত কাজ করছেন না। তিনি বলেন, বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।