ঘরোয়া পরিবেশের এমন এক ক্যাফে ঢাকা শহরে খুব কমই রয়েছে। খাবার আর আড্ডাখানার দারুণ সমন্বয়ে গড়ে তোলা ক্যাফে অজো ঘুরে এসে লিখেছেন
সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
ও ছবি তুলেছেন
দীপঙ্কর দীপু
খুব বড়সড় সাইনবোর্ড থাকতে হবে নাম প্রচারের জন্য এমনটা সব সময় ঠিক নয়। নান্দনিকতার ছোঁয়া রেখেই গেটের এক কোণে সুন্দর করে ক্যাফের নামটা বসান হয়েছে। কিছুটা ব্যতিক্রম করতেই হয়তো বাংলা প্রথম অক্ষর ‘অ’-এর সাথে ইংরেজি ‘জে’ আর ‘ও’ যোগ করে নামটা হয়েছে ‘অজো’। এর শুরুর ভাবনাটাও দারুণ ছিল! ঢাকা আর্ট সেন্টার উদ্বোধনের পর কিছুদিন যেতেই ভবনের পাশের আর পেছনের ফাঁকা জায়গাটাকে ঘিরেই ভাবনার আবর্তন। নিচতলা আর দোতলা মিলিয়ে একশ জনেরও বেশি মানুষ বসতে পারে একসাথে! একশরও বেশি বলতে বুঝানো হয়েছে—অজোতে বসার আয়োজন কিন্তু একদমই সিট মেপে মেপে বানানো হয়নি। মাঝখানে একটা মাঝারি উচ্চতার কাঠের টেবিল, চক্র করে তারপাশেই হয়তো টানা বসার আয়োজন। শখ হলো তো একটা মোড়া টান দিয়ে বসে পড়লেন সেই আড্ডায়। ক’জনকে দেখা গেল ঠিক বাবুয়ানা বৈঠকখানার মতো বসে পড়েছেন পা দুটো তুলে। এখানেই তো অজোর মুন্সিয়ানার পরিচয়। নেহাতই কোনো রেস্তোরাঁ নয়, ঘরের পরিবেশে ঘরোয়াভাবেই পছন্দের খাবারটা পরখ করে নেওয়ার সুযোগ। আর একবার পরখ করলে বারবার আসতেই হবে, সেটা বলাই বাহুল্য। বেশ জোর দিয়ে আমাদের কথাগুলো বলছিলেন অজোর ম্যানেজার কাওসার আহমেদ। কথার ফাঁকেই তিনি আবার দেখিয়ে দিলেন আখের গাছ লাগিয়েছেন অজোর ঢোকার পথেই। আমরা দোতলায় বসে যখন অজোর গল্প শুনছি, নিচতলা তখন ভরপুর আড্ডায়। দোতলাতেও আলাদা আলাদা বিভাজনে বসার জায়গা রয়েছে, সেটা আড্ডার খাতিরেই বৈকি! একদল বন্ধু বেরুতে না বেরুতেই আরেকদল এসে হাজির। অজোতে কখনোই কেউ কেবল খেতে আসে না। সমানে চলে গল্প। অজোর কেউই আপনাকে এ জন্য কিছু বলতে আসবে না, মজা করে বললেন ম্যানেজার। তাই বলে শুধু আড্ডা নয়, খাবারের দিকেও নজর রয়েছে অজোর। সবচেয়ে মজার খাবার কোনটা এমন প্রশ্নের উত্তর বরাবরই কঠিন ব্যবস্থাপকের জন্য। তবুও কেন জানি ছিটপিঠার নামটা বলতে হয়। গ্রামদেশে এই ছিটপিঠা বা ছিটরুটি অনেক জনপ্রিয়! অজো সেটাও আজ নিয়ে এসেছে আমাদের এই শহরে। তা ছাড়া বাহারি দেশীয়, চাইনিজ আর কন্টিনেন্টাল খাবারের দেখা মেলে অজোতে, শুধু দেখা বলা সমীচীন নয়, স্বাদ গ্রহণের সুযোগ মেলে। স্যুপের দাম শুরু ১৩৯ থেকে, রোল রয়েছে ১১৩ টাকা থেকে, একদম ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত ৪৩ থেকে শুরু, ডাল পাবেন ১১৩ টাকা থেকে, পরোটা রয়েছে ২৯ টাকায়, নান ভক্তদের জন্য অজো স্পেশাল নান ৭৩ টাকায়। এর সাথেজুড়ে যেকোনো কিছুই খেতে পারেন আপনি। সহজ হিসেবে যারা, তাদের জন্য সেটমেন্যু তো রয়েছেই। ২৩০ থেকে শুরু করে ৬২৩ পর্যন্ত হতে পারে রকমভেদে। খাবারের পর আইসক্রিম, লাচ্ছি, জুস না হলে কি চলে আর আমাদের! ৫৩ টাকায় রয়েছে লেবু চা! কফি হাউজের আড্ডাতে মাতোয়ারা হতে হাতে নিন এক মগ অজোর কফি! হাতে নিয়ে কিছুটা সময় পরিবেশনের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে আপনাকে, কথা দিচ্ছি! কাদের জন্য এই খাবার আয়োজন? মূলত তরুণরা এলেও সবার জন্যই রয়েছে নানা স্বাদের খাবার। আর এই পুরোটাকেই আপনি নিজে দখলে না নিতে পারলেও আগাম জানিয়ে ছোট্ট পার্টি করতেই পারেন। এক বিকেলে তো এবার আড্ডা হতেই পারে অজোতে, তাই না?
