উঠে যাচ্ছে লাঙ্গলের চাষ। সে স্থান দখল করছে কলের লাঙ্গলের (পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর) চাষাবাদ। পশ্চিমের যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলাতে বর্তমানে ৯০ ভাগের বেশি জমি পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করা হচ্ছে। চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক জোড়া লা্ঙ্গল জোয়াল তৈরিতে কাঠ ও মিস্ত্রী খরচ ৩ হাজার টাকা। এক জোড়া হালের বদল কিনতে লাগে এক লাখ টাকা। এরপর বলদ পালন। এক জোড়া বলদের দৈনিক খাদ্য লাগে কম করে দেড়শ’ টাকা। তাই চাষি লাঙ্গলের চাষ তুলে দিয়ে পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করছে। আগে কৃষকের গোয়াল গোয়ালে গরুর দেখা মিলত। এখন দেখা যায় উঠানে পাওয়ার টিলার। শৈলকুপার বিজুলিয়া গ্রামে এক সময় আড়াইশ’ লাঙ্গল ছিল। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮-১০ খানাতে। হাবিবপুর গ্রামে দু’শতাধিক লাঙ্গল ছিল। এখন তা কমে ৫ খানা হয়েছে। লাঙ্গলের চাষে তুলনামূলক ব্যয় বেশি । এক বিঘা জমি লাঙ্গল দিয়ে চাষ ও কাদা করতে নেয়া হচ্ছে এক হাজার টাকা। পক্ষান্তরে পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ ও কাদা করতে নেয়া হচ্ছে ৮শ’ টাকা। পাওয়ার টিলারের দাম এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। ব্যাংক ঋণ নিয়ে কেনা যায়। নিজের জমি চাষের পর অপরের জমি চাষ করে বাড়তি আয় করা যায়। তাছাড়াও ধান মাড়াই, ঝাড়াই, আখ মাড়াই, পণ্য পরিবহনসহ বহুবিধ কাজে পাওয়ার টিলার ব্যবহার করা যায়। এজন্য গরু লাঙ্গল বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বলে চাষিরা জানান।
