পুরাতন কলা ভবনের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সামনে থেকে দেশের শেকড় সন্ধানীদের যাত্রা শুরু হলো। ৮০ জনের অভিযাত্রী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নূরুল কবির ভুঁইয়া রনি স্যার এবং জুলকারনাইন স্যার। সবার প্রিয় হাবিল ভাইও সঙ্গে আছেন। আমাদের গন্তব্য কক্সবাজার, টেকনাফ হয়ে সেন্ট মার্টিনের নীল সমুদ্রে। বাসের ভেতরে আড্ডা আর কোরাস গানে মাতোয়ারা। টেকনাফে পৌঁছাতে দুপুর হয়ে গেলো। একটু নাস্তা করেই আমরা ছুটলাম টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে। সমুদ্রে দাপাদাপি ও ফটোসেশন শেষ করে হোটেলে ফিরতে বিকাল গড়িয়ে গেল। মাথিন কুপের ইতিহাস পড়ে এবং পাশের পাহাড় দেখে সন্ধ্যা কাটলো। রাতে বার্মিজ মার্কেটের কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো সবাই।
পরদিন সকালে নাস্তা শেষে আমাদের গন্তব্য দমদমিয়া ঘাট। সাড়ে নয়টার মধ্যেই ছাড়লো আমাদের জাহাজ। নাফ নদীতে সাঁতার কাটতে কাটতে আমরা বঙ্গোপসাগরের দিকে এগিয়ে চললাম। এরইমধ্যে মৌর নেতৃত্বে আসাদ, সাব্বির, ইমন, তামান্না, কাওসার, লাকী, সৌতি, কাব্য, মিরাজ, দিদার, মুন্নী, জাকিয়া, রাজীব, সোহাগ মিলে গলা ফাটানোর প্রতিযোগিতায় পুরো জাহাজ কম্পমান। সেন্ট মার্টিনে জাহাজ যখন ভিড়লো তখন দুপুর ১টা। হোটেলে ব্যাগেজ, লাগেজ রেখে দানাপানি পেটে পুরেই দৌড়ালাম নীল জলের হাতছানিতে। সবাই সাগরের ঢেউয়ের সাথে নাচানাচি, লাফালাফি করলাম। ঢেউয়ের উপরে ড্রাইভ দিলাম। সবাই মিলে পালাক্রমে একজন আরেকজনকে চুবানি থেরাপি দেয়া হলো। শেষ বিকালে সাগর তীরে আয়োজন করা হলো বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা হা-ডু-ডু।
রাতের সমুদ্র সৈকত আর পূর্ণিমা চাঁদের জোসনা। আমরা এক নেশাতুর সৌন্দর্যে ডুবে গেলাম। কেউ সাগর সৈকতে হাঁটছে, কেউ তীরে ভেড়ানো নৌকায় ইমনের বাঁশিতে মুগ্ধ। আবার অনেকেই গলা ছেড়ে গান গাইতে ব্যস্ত। জাহাজ ঘাটের জেটিতে শুয়ে আকাশ দেখতে মগ্ন অনেকেই।
পরদিন সকালে আমাদের অভিযান ‘অপারেশন ছেড়াদ্বীপ’। ১২ জনের ‘দি এ টিম’ চললো পায়ে হেঁটে। বাকিরা ট্রলারে। সাগর তীর ধরে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এ টিম ছেড়াদ্বীপে পৌঁছালো ট্রলার চড়াদের আগেই। এ টিম-এর পক্ষ থেকে ট্রলার বাহনীকে স্বাগত জানানো হলো বাংলাদেশের সবশেষ বিন্দু ছেড়াদ্বীপে। ডাব বিক্রেতার দোকানের সামনে বাংলাদেশের একটা ছেড়া পতাকা উড়ছিলো।
জাতীয় সঙ্গীত গাইতে গাইতে আমরা সেটাকে নামিয়ে চকচকে নতুন পতাকা উড়িয়ে দিলাম। ২ ঘণ্টা ঘুরে-ফিরে আবার সেন্ট মার্টিনে ফিরলাম। ক্যাম্প ফায়ার, বারবি কিউ এবং আতসবাজির আয়োজন ছিলো। ফেরার সময় আবারো জাহাজে গানের আসর, আড্ডা ছিলো। বন্ধুদের সঙ্গে বার্মিজ আচার ও বাদাম ভাগাভাগি করে খাওয়াও ছিলো অন্যতম অনুসঙ্গ। কিছুটা তিক্ত অভিজ্ঞতাও আমাদের সঙ্গী হলো। নীল সমুদ্রের হাতছানিকে পেছনে ফেলে আমরা ফিরলাম আমাদের চিরচেনা সবুজ ক্যাম্পাসে।
