ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের পরে এল ত্রিমাত্রিক স্ক্যানার

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৩, ১৯:১২
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তি নতুন যেসব উদ্ভাবন আমাদের চমকিত করেছে, তার মধ্যে অন্যতম একটির নাম ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার। এর মাধ্যমে সরাসরি কোনো একটি বস্তুকে তৈরি করা যাবে ঘরে বসেই প্রিন্টারের সাহায্যে। নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি বস্তুকে ত্রিমাত্রিকভাবে ডিজাইন করা গেলেই সেটি প্রিন্ট করে দিতে সক্ষম হবে এই ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার। এই ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার অবশ্য এখনও পর্যন্ত একদম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আসেনি। তবে তার আগেই আবার আরেক চমক নিয়ে হাজির হয়েছেন প্রযুক্তি গবেষকরা। ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এবারে তারা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন ত্রিমাত্রিক স্ক্যানার। কোনো ডক্যুমেন্টকে ডিজিটাল রূপে সংরক্ষণ করতে স্ক্যানারের প্রয়োজন হয়ে থাকে। তবে ত্রিমাত্রিক বস্তু হলে তা স্ক্যান করার কোনো উপায় এতদিন পর্যন্তও জানা ছিল না গবেষকদের। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতেই এল এই ত্রিমাত্রিক স্ক্যানার। এর ফলে যেকোনো বস্তুকেই ত্রিমাত্রিকভাবে স্ক্যান করা যাবে। আর স্ক্যান করার সাথে সাথেই এটি প্রিন্ট করার সুযোগও পাওয়া যাবে। চার বছর আগে মেকারবট ঘোষণা দেয় প্রথম ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের। তারা সফলভাবে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের প্রোটোটাইপও প্রদর্শন করে। চার বছর পরে সেই মেকারবটই ঘোষণা দিয়েছে এই ত্রিমাত্রিক স্ক্যানারের। মেকারবটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রি পেট্টিস জানিয়েছেন এই ত্রিমাত্রিক স্ক্যানারের কথা। তিনি জানিয়েছে, তারা যে ত্রিমাত্রিক স্ক্যানার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, তা ক্ষুদ্র আকারের বস্তুকে ত্রিমাত্রিকভাবে স্ক্যান করতে সক্ষম। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই স্ক্যানারে রয়েছে দুইটি লেজার বিম এবং একটি ওয়েবক্যাম। এর মাধ্যমে ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত ব্যাসের কোনো বস্তুকে স্ক্যান করা যাবে। আর এর জন্য সময় লাগবে ৩ মিনিটেরও কম। স্ক্যান করা হয়ে গেলে সাথে সাথেই সেই স্ক্যান কপি থেকে বস্তুটির প্রিন্টও নেওয়া যাবে, যার অর্থ হচ্ছে বস্তুটিকে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের মাধ্যমে তৈরি করে নেওয়া যাবে। ত্রিমাত্রিক কোনো বস্তুকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডিজাইন করার চাইতে অনেক সহজে এই প্রক্রিয়ায় তৈরি করা সম্ভব। ছোট ছোট আকৃতির বস্তুকে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারে প্রিন্ট করতে চাইলে এই স্ক্যানার অত্যন্ত উপযোগী হবে বলেই জানিয়েছেন মেকারবটের পেট্টিস। খেলনা থেকে শুরু করে অলংকার বা যেকোনো কিছুই এর মাধ্যমে তৈরি করে নেওয়া যাবে। চলতি বছরের শেষের দিকেই এই ত্রিমাত্রিক স্ক্যানার বাজারে আসবে বলেই আশাবাদ জানিয়েছেন পেট্টিস।