গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিকমহল খুবই উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে সরকারের মেয়াদের শেষপ্রান্তে নির্বাচনী বছরে সামনের দিনগুলোতে আরো সংঘাত, সহিংসতার আশংকা করছে বিদেশিরা। এ পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়া নির্ধারণকে অগ্রাধিকার হিসাবে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেকে।
গত মঙ্গলবার লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরে বাংলাদেশ বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখেন এমন কর্মকর্তারা ইত্তেফাক প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে এ অভিমত দেন। তাদের মতে, বাংলাদেশ এখনো একটি তরুণ গণতান্ত্রিক দেশ। গণতান্ত্রিক রীতি ও বিধান এখনো দেশটিতে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়াতে পারেনি। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০০৮ সালের নির্বাচনের মত দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু হওয়া দরকার। ঐ নির্বাচন গণতন্ত্রের পথকে সুগম করেছিল। আগামী নির্বাচনও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার সুযোগ বাংলাদেশকে নেয়া উচিত। এ জন্য সকল দলকে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করতে হবে। সহিংসতা বা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড যতই চলতে থাকবে তা নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথকে সংকুচিত করে ফেলবে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। সংঘাত বা সহিংসতা অর্থনীতি তথা বিনিয়োগকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটা সকলের উপলব্ধি করা জরুরি। রাজপথে সংঘাত কিংবা হরতালের মত কর্মসূচির কারণে দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, এখানে সরকারের কোন কর্মকাণ্ড পছন্দ না হলে সংশ্লিষ্ট এমপির কাছে ১০ হাজার স্বাক্ষর সম্বলিত আবেদন সংসদে বিতর্কের জন্য পেশ করা হয়। এটাই হচ্ছে সংসদীয় ব্যবস্থার বিধান। এভাবেই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও চর্চা টেকসই হয়ে উঠে। গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে প্রায় অধিকাংশ দিন ছিল হরতাল আর রাজনৈতিক সহিংসতা কবলিত। এ কারণে শিক্ষা, বিনিয়োগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশ এ পরিস্থিতির ধকল কাটিয়ে উঠতে পারবে কিনা সেটা ভাবা দরকার।
ওই কর্মকর্তা জানান, এমন সংঘাতময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকরা তাদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত। এটাও ব্রিটিশ সরকারের জন্য বড় একটা উত্কণ্ঠার বিষয়। চলমান যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে ব্রিটিশ কর্মকর্তা বলেন, ’৭১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার কার্যক্রমকে যুক্তরাজ্য সমর্থন করে। তবে সে বিচার আন্তর্জাতিক মানের স্বচ্ছতা বজায় রেখে হওয়া দরকার। আর মৃত্যুদণ্ডের বিধানের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট। শাহবাগের নতুন প্রজন্মের গণজাগরণ মঞ্চকে শান্তিপূর্ণ মত প্রকাশের দৃষ্টান্ত বলে তিনি মনে করেন।
