ইসলামী ব ই প রি চি তি

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৩, ১৭:৫৫
নাম: মক্কা-মদীনার ইতিহাস সংকলন: মাওলানা মিজানুর রহমান জাহেরী সম্পাদনা: জাকির হোসাইন আজাদী প্রকাশকাল:জানুয়ারি-২০১৩ প্রকাশনায়: সোলেমানীয়া বুক হাউজ প্রকাশক: আলহাজ্ব হুমায়ুন কবীর চৌধুরী হাদিয়া: ২৫০/- পবিত্র মক্কা ও মদীনা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম জনপদগুলোর অন্যতম। এখানে এসেছে আল্লাহর সৃষ্টি প্রথম মানব ও নবী হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে আখেরি নবী সাইয়েদুল মুরসালিন হযরত মুহাম্মদ (স.) পর্যন্ত অসংখ্য নবী ও রসূল। তাছাড়া এই মক্কা নগরীকে বলা হয়েছে উম্মুল কুরা বা পৃথিবীর সমস্ত গ্রামসমূহের জননী। সকল মানুষের জননী যেমন মা হাওয়া। তেমনি সকল গ্রামের জননী হলো এই মক্কা-নগরী। সে হিসেবে প্রতীয়মান হয় যে, পবিত্র মক্কা মোকাররমাকে কেন্দ্র করেই পৃথিবীর সব জনবসতির সূচনা হয়েছে। মক্কা ও মদীনার সাথে রয়েছে পৃথিবীর সব মুসলমানের নাড়ীর সম্পর্ক। কেননা এখানেই আল্লাহ-তায়ালার সম্মানিত ঘর-খানায়ে কাবা অবস্থিত। তার পাশে রয়েছে যমযম কূপ যা হযরত ইসমাইল (আ.) এর পায়ের গোড়ালির আঘাতে আল্লাহ-তায়ালার অসীম কুদরতে সৃষ্টি হয়েছিল। যা পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ পানীয়। তার পাশে রয়েছে সাফা-মারওয়া পাহাড়। যে পাহাড়ে পানির সন্ধানে হযরত হাজেরা সাতবার উঠেছিলেন। আর এই পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়েই ইসলামের প্রাথমিক দাওয়াত দিয়েছিলেন সাইয়েদিনা হযরত মুহাম্মদ (স.)। এখান থেকে ২ মাইল দূরে অবস্থিত জাবালে নূর। যেখানে মুহাম্মদ (স.) প্রায় ১৫ বছর অবধি অবিরামভাবে সাধ্য-সাধনা করেছেন। এখান থেকে ১ মাইল দূরে জাবালে সাওর। যেখানে মুহম্মদ (স.) হিজরতের সময় ৩ দিন ৩ রাত আত্মগোপন করেছিলেন। কাবা ঘর ও আরাফা ময়দানের মাঝখানে একটি জায়গা রয়েছে যার নাম অদিয়ে মুহাসসার যেখানে কাবাঘর ধ্বংস করতে অগ্রসরমান আবরাহার হস্তিবাহিনীকে আল্লাহ-তায়ালা মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর আরাফা ময়দান যেখানে পৃথিবীর প্রথম মানব আদম ও হাওয়ার মিলন সংঘটিত হয়েছিল। রয়েছে জান্নাতুল মুয়াল্লা কবর স্থান। যেখানে শায়িত রয়েছেন ইসলামের প্রথম স্বীকৃতিদান কারিণী হযরত খাদিজা (রা.) এর কবর। আছে রহমাতাল্লিল আলামীন-এর বাড়ি ইত্যাদি। মদীনায় রয়েছে এই পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পয়গম্বর হযরত মুহাম্মদ (স.) এর পবিত্র রওজা মুবারক। জান্নাতুল বাকী কবর স্থান। রসূল (স.) বলেছেন কেয়ামতের দিন জান্নাতুল বাকী থেকে ৪০ হাজার মানুষ উঠবে যাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মত এবং তারা বিনা হিসাবে বেহেশতে প্রবেশ করবে। রয়েছে মসজিদে জুমআ, মসজিদে কুব্বা, বদরের প্রান্তর ও হুদের প্রান্তরসহ অসংখ্য দর্শনীয় ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত স্থান। যেসব জায়গা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। এই পবিত্র মক্কা-মদীনার ইতিহাস গ্রন্থটিতে ঐসব স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোর বিবরণ বিস্তারিতভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে। আমরা গ্রন্থটির বহুল প্রচার কামনা করছি। -হোসাইন আল খালদুন