বিশ্ব নদীরক্ষা দিবসে বড়াল নদী রক্ষায় ‘বাঁধ-স্লুইসগেট ভেঙ্গে ব্রিজ করো, বড়াল নদী চালু করো’ এই শ্লোগান নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহীর চারঘাট থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি পর্যন্ত ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বড়াল রক্ষা আন্দোলন, চলনবিল রক্ষা আন্দোলন ও রিভারাইন পিপলস্ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। আয়োজকদের ভাষ্য, পৃথিবীর ইতিহাসে এটাই দীর্ঘতম মানববন্ধন। রাজশাহীর চারঘাট থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি পর্যন্ত তিনটি জেলার ৯টি উপজেলার হাজার হাজার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন পয়েন্টে বক্তব্য দেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন, যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব, শরীফ জামিল, মো. আলমগীর, চলনবিল ও বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এসএম মিজানুর রহমান, চাটমোহর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন, মো. আব্দুল মালেক, ডিএম আলম প্রমুখ। একাত্মতা প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস সরকার, শাহরিয়ার আলম, আলহাজ্ব মো. মকবুল হোসেন, সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা আলহাজ্ব কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. বাকি বিল্লাহ প্রমুখ। প্রকাশ, চাটমোহরে ১৯৮২ সালে আড়াআড়িভাবে দেয়া চারটি ক্রসবাঁধ নদীটিকে বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত করেছে। এলাকাবাসীর যোগাযোগের সুবিধার কথা বলে দেয়া বাঁধগুলোর কারণে আবর্জনা ও কচুরিপানায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে পুরো এলাকা। উল্লেখ্য, রাজশাহীর চারঘাটে পদ্মা থেকে বড়ালের উত্সমুখে ১৯৮১ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করে প্রথম নদী পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করে। পরের বছর নদীর অপরদিকে পাবনার চাটমোহর- ভাঙ্গুড়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা নুননগরে গুমানী নদী থেকে বড়ালের উত্সমুখে আরও একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়। এতে দুইদিক থেকে বড়াল আটকে যায়।
পানি প্রবাহ কমে নৌযান চলাচল ব্যাহত হতে থাকে। এ সময় স্থানীয় লোকজন পারাপারের জন্য নদীর ওপর দিয়ে সেতু তৈরির দাবি তোলেন। কিন্তু তত্কালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমান উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ কেএম আনোয়ারুল ইসলাম সেতুর বদলে নদীর মাঝ দিয়ে আড়াআড়ি বাঁধ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একে একে চাটমোহর পৌর এলাকার নতুনবাজার খেয়াঘাট, বোথর খেয়াঘাট, বিলচলন ইউনিয়নের রামনগর ও গুনাইগাছা এলাকায় নদীর মাঝ দিয়ে আড়াআড়ি চারটি বাঁধ দেয়া হয়। পরে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালে গুনাইগাছা হাট এলাকার বাঁধটি অপসারণ করে সেখানে একটি সেতু করা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ১৯৮২ সালে উপজেলা পরিষদে প্রচুর পরিমাণে কাজের বিনিময়ে খাদ্যের (কাবিখা) গম বরাদ্দ আসে। পরিষদ গমগুলো কাজে লাগাতে পারছিল না। গমগুলো ব্যবহারের জন্যই নদীর মাঝ দিয়ে বাঁধ দেয়া হয়।
