দাকোপে তরমুজচাষে লোকসানে কৃষক!

আপডেট : ০৫ মে ২০১৯, ২১:২০

বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা

ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এবার দাকোপের বিভিন্ন এলাকার শত শত কৃষক তরমুজ চাষে ব্যাপক লোকসানে হতাশ হয়ে পড়েছেন। মারাত্মকভাবে ঋণের বেড়াজালে জড়িয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছেন।

হরিণটানা এলাকার কৃষক মনোরঞ্জন মণ্ডল বলেন, প্রথমবার বৃষ্টির পানিতে বীজতলা তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় আবার ধার দেনা করে ৮৪ হাজার টাকা খরচ করে ৭ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার তরমুজ গাছে কোনো ফল আসেনি যে কারণে তার চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে বলে জানান।

একই এলাকার কৃষক সমির পাইক জানান, প্রথমে তিনি ধার দেনা করে ৮ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেন। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর মাত্র আড়াই বিঘায় পুনরায় তরমুজ চাষ করেন।

উপজেলার পশ্চিম বাজুয়া এলাকার কৃষক তপন মণ্ডল বলেন, তিনি এবার লোন এবং ধার দেনা করে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ২৫ বিঘা জমিতে তরমুজের বীজ রোপণ করেন। এতে তার প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণে সমস্ত তরমুজের বীজতলা পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। প্রধানত তিনি পানি নিষ্কাশন অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেন। পুনরায় তিনি ৮ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করেও ফলন তেমন ভালো পাননি এবং এখনো পর্যন্ত তা বিক্রি করতে পারেননি। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি কি খেয়ে বাঁচবেন এ চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

বাজুয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ গাইন বলেন, প্রথমে কৃষকরা মনে অনেক আশা নিয়ে ঘরের খাবার মজুদ ধান বিক্রি, মহাজন, ধার দেনা ও ব্যাংক, এনজিও থেকে লোন নিয়ে তরমুজ চাষ করে। কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাতে জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে রোপণকৃত বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এতে এলাকার অধিকাংশ কৃষক ব্যাপক লোকসানে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কিন্তু এলাকার অধিকাংশ কৃষক ঋণের বেড়াজালে জড়িয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন অতিবাহিত করছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, কৃষকরা এবার ব্যাপক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রায় প্রত্যেক কৃষক লোকসান খেয়েছেন। কৃষকদের সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।