একের পর এক রহস্যজনক আগুনে পুড়ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রাম। গত একমাসে ধারাবাহিকভাবে ১৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে আড়াইসিধা গ্রামের বড়বাড়ি ও মোল্লাবাড়িতে। এই ধারাবাহিক আগুনে কৃষিপণ্যসহ কাঁচা,আধাপাকা ও পাকা ৩০টি ঘর এবং আসবাবপত্র পুড়ে কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। পুরো গ্রামে বিরাজ করছে এখন আগুন আতংক। সন্ত্রাসী হামলায় আড়াইসিধা গ্রামের মাধুরবাড়ির কলেজ ছাত্র সাইফুল খুন এবং মোল্লাবাড়ি ও মাধুরবাড়ির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটছে। এ বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সর্বমহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে অগ্নিকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনরা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার আড়াইসিধা কেবি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের যোগদানকে কেন্দ্র করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি গ্রামের বাজার এলাকায় মোল্লাবাড়ি ও মাধুরবাড়ির মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে মাধুরবাড়ির কলেজ ছাত্র সাইফুল আলম তালশহর বাজার থেকে অন্য একটি রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে একই গ্রামের নতুন চকবাজারের কাছে সন্ত্রাসী হামলায় খুন হয়।
এ ঘটনায় মোল্লাবাড়ি ও বড়বাড়ির ১৫ জনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। এই মামলার গ্রেফতার এড়াতে বড়বাড়ির পুরুষরা পালিয়ে যায় এবং ভয়ে নারী-শিশুসহ পরিবারের লোকজন বাড়ির মালামাল নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। এসব জনশূন্য বাড়িঘরেই ধারাবাহিকভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটছে। মাধুরবাড়ির ডা. মো. সেলিম জানান- অগ্নিকান্ড ঘটিয়ে ক্ষয়ক্ষতি করা কারো কাম্য হতে পারে না। আমার বংশের লোকদের ফাঁসিয়ে কলেজ ছাত্র সাইফুল আলম হত্যা মামলাটি নষ্ট করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আশুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম ফারুক জানান, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত পুলিশ টহলের পাশাপশি সার্বক্ষণিক ১০ জন আনসার সদস্যের টহলের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
