খাদ্য সংকটে উত্তর কোরিয়া

আপডেট : ০৫ মে ২০১৯, ২১:৪৪

তৌহিদ আজিজ

 

উত্তর কোরিয়ায় চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বিগত বছরগুলোতে ফসলের উত্পাদন অত্যধিক কম হওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর এর মূলে যে কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে উচ্চ তাপমাত্রা, খরা, বন্যা আর সর্বোপরি দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা।

সম্প্রতি ডব্লিউএফপি ও ফাও’র এক যৌথ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। সংস্থা দুটি জানায়, পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি এখন চরম খাদ্য সংকটে। প্রায় এক কোটি মানুষ এই অবস্থার প্রত্যক্ষ শিকার। ২০১৮-১৯ সালে যে শস্য উত্পাদন হয়েছে তা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম। এ সময়ে মাত্র ৪৯ লক্ষ টন ফসল উত্পন্ন হয়েছে। সংস্থা দুটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বিশাল সংখ্যক লোক এর সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন হবে তার সুদূরপ্রসারী ফলাফল হবে মারাত্মক। এই সংখ্যক লোকের ক্ষতির অর্থ দাঁড়ায় পরবর্তী ফসল উঠার আগ পর্যন্ত তাদের হাতে আর কোনো শস্য থাকবে না। সংস্থা দুটি গত মাসে এ নিয়ে কাজ করে। সেখানে দেখা যায়, বর্তমানে যে খাদ্যের অবস্থা তা অত্যন্ত ভয়াবহ। তারা বলেন, এই সংকটের কারণে পরিবারের খাদ্যের চাহিদা বাধ্য হয়ে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের খাদ্য তালিকা থেকে খাবারের পরিমাণ কমানো হয়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশটির জন্য একটি মারাত্মক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

ডব্লিউএফপি’র এই মিশনের সমন্বয়কারী নিকোলাস বিডল্ট বলেন, এই অবস্থা শিশু, অন্তঃসত্ত্বা এবং বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। কেননা মায়েরা পুষ্টিহীনতায় ভুগলে তা সন্তানদের ওপরে গিয়েও পড়বে। প্রতিবেদনে সংস্থা দুটি এ কারণে তাদের গভীর উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছে। নিকোলাস বিডল্ট বলেন, খাদ্য সংকটের এ চিত্র দেশটির জন্য নতুন কোনো খবর নয়। তবে বর্তমান অবস্থা তাদেরকে আরো খারাপ থেকে অধিকতর খারাপের দিকে নিয়ে যাবে। ফলশ্রুতিতে এটি মা ও শিশু উভয়ের জন্যই একটা ভয়াবহ বার্তা। তিনি বলেন, খাদ্যের এ সমস্যার কারণে তাদের দৈনন্দিন যে খাদ্য চাহিদা কিংবা খাদ্য তালিকা ছিল তা আরো কমিয়ে আনতে হবে। বিষয়টি ভবিষ্যতে তাদের গভীর সংকটে ফেলবে। ফাও’র সিনিয়র অর্থনীতিবিদ মারিও জাপ্পাকোস্টা বলেন, শীতের সময়ে দেশটিতে তাপমাত্রা আরো হ্রাস পাওয়ায় প্রায় এক পঞ্চমাংশ খাদ্য উত্পাদন কমে গেছে।

দেশটিতে এর আগেও বহুবার খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে তা অত্যন্ত ভয়াবহ বলে দাবি করা হয়েছে।