অলক বিশ্বাস
ব্রেক্সিট ইস্যুতে এমনিতেই চাপে রয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এর মধ্যে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এনএসসি)র বৈঠকে ‘চীনের হুয়াওয়ে কোম্পানিকে ফাইভ জি নেটওয়ার্কের কাজ দেয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে’ বলে দ্য টেলিগ্রাফ খবর প্রকাশ করলে মারাত্মক চাপে পড়ে থেরেসা মে’র সরকার। এই চাপ সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী গেভিন উইলিয়ামসনকে বরখাস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। মূলত উইলিয়ামসনের ঘাড়ে বন্দুক রেখেই গুলিটা করলেন থেরেসা। গেভিন উইলিয়ামসনের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ আনেন উইলিয়ামসনই এনএসসির বৈঠকে চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে সংক্রান্ত আলোচনার তথ্য ফাঁস করেছেন। যদিও গেভিন উইলিয়ামসন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার বিশ্বাস ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হলে তিনি নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে পারবেন।
২০১৭ সাল থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে আসছেন উইলিয়ামসন। ন্যাশনাল কাউন্সিলের যে বৈঠকের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ আনা হয়েছে উইলিয়ামসনের বিরুদ্ধে সেখানে সভাপতিত্ব করেছেন থেরেসা মে নিজেই। যুক্তরাজ্যের সিনিয়র মন্ত্রীদের পাশাপাশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারাও। কিন্তু দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত ‘চীনা কোম্পানি হুয়াওকে ফাইভ জি’র কাজ দেয়ার বিষয়ে আলোচনা’র তথ্যটি ফাঁসের জন্য সরাসরি আঙ্গুল তোলা হয় উইলিয়ামসনের দিকে। এভাবে উইলিয়ামসনকে পদত্যাগ করতে থেরেসা মে’র হস্তক্ষেপের পর একটা কথা ব্রিটিশ গণমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। থেরেসা মে কী তাহলে চলমান সমালোচনা বন্ধ করতেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ‘বলির পাঠা’ বানালেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে কোনো চুক্তি ছাড়াই বেরিয়ে যাওয়ার জন্য থেরেসা মে যে প্রস্তাব এনেছিলেন তা দুই দফা বাতিল হয়েছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। শেষ পর্যন্ত ব্রেক্সিট কার্যকরের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অনুরোধ করে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় পেলেও নানা ইস্যুতে চাপে রয়েছেন থেরেসা মে। হুয়াওয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টানাপড়েনের মধ্যে হুয়াওকে কাজ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মে’র সম্পর্কের অবনতি হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো মিত্র দেশ যাতে আবার থেরেসা মে’র হাতছাড়া না হয়ে যায় সেজন্যই তিনি সমালোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে এ কাজটি করাটা অমূলক কোনো বিষয় না। অনেকেই এটিকে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও বিবেচনা করছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী গেভিন উইলিয়ামসনকে পদত্যাগ করতে বলা চিঠিতে থেরেসা মে বলেছেন, এই তথ্য ফাঁসের একটি তদন্তে তার দায়িত্বহীনতার প্রমাণই উঠে এসেছে। আর কাউকে দায়ী করার মতো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। উইলিয়ামসনকে বরখাস্ত করার পর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়কমন্ত্রী পেনি মরডান্টকে দেয়া হয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব। তবে এমনিতেই দলের মধ্যে নাজুক অবস্থায় থাকা থেরেসা মে’র এই সিদ্ধান্ত দলের মধ্যে তার অবস্থানকে কোন দিকে নিয়ে যায় সেটি একটি বড় বিষয়।
