লাকিপলের গোলে আবাহনীর সুন্দর সূচনা

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৩, ২১:০৩
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফরাশগঞ্জের কাছে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের গত আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে হারের শোধ নিল আবাহনী। গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার তৃতীয় আসরের উদ্বোধনী খেলায় ফরাশগঞ্জকে পেয়ে আবাহনী ২-০ গোলে হারালো তাদের। দ্বিতীয়ার্ধে ঘানার ষ্ট্রাইকার লাকি ওতপে পল গোল দুটি করেন। স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে এবার ‘বি’ গ্রুপটিকে বলা হচ্ছে ‘মৃত্যু উপত্যকা’। কালকের দুই প্রতিপক্ষ ছাড়াও এই গ্রুপে আছে আরেক শক্তিশালী দল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। কিন্তু টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি গ্রুপ থেকে একটি দলই সেমিফাইনালে উঠবে। শেষ চারে যোগ দেয়ার ব্যাপারে আবাহনী ও শেখ রাসেলের মধ্যে জোর লড়াই হবে বলেই ধারণা করছে ফুটবলামোদীরা। তাই ফরাশগঞ্জের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ জিতে এগিয়ে থাকার পরও আবাহনী নির্ভার থাকতে পারছে না। কারণ গ্রুপের খেলা শেষে পয়েন্ট সমান হলে আসবে গোল গড়ের হিসাব। কিন্তু লাকিপল, জাতীয় দলের স্ট্রাইকার রনি কিংবা কমলরা গোলের সুযোগ খোয়ানোয় ফরাশগঞ্জের বিরুদ্ধে জয়ের ব্যবধানটা বড় হয়নি। ক্লাব ফুটবলাররা ২৫ দিন পর আবার মাঠে নামলেন। তাই ছন্দের ঘাটতি দেখা গেছে তাদের পারফরম্যান্সে। তারপরও ফরাশগঞ্জ বল পজেশনে পাল্লা দিয়েছে। গোলের সুযোগও পেয়েছিল দলটি। কিন্তু স্ট্রাইকার মিলন এবং ডিফেন্ডার পিন্টু দাস সেসব ভেস্তে দেন। প্রথমার্ধে আবাহনী তিনটি সুযোগ নষ্ট করে। লাকিপলের বল সাইড নেটে জড়ায়, রনি ফরাশগঞ্জের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাইরে মারেন, আবার লাকিপলের শট ক্রসপিসের উপর দিয়ে চলে যায়। বিরতির পর অবশ্য মিনিটের কাটা পুরোপুরি ঘোরার আগেই প্রথম আক্রমণে গোল পান লাকিপল ১-০। এই গোলের পেছনে পুরো কৃতিত্বই রনির। জাতীয় দলের এই স্ট্রাইকার দক্ষতার সাথে বল ফেলেন ফরাশগঞ্জের গোল মুখে। লাকিপল শুধু পা ছোয়ালেই বল গেল জালে। ছয় মিনিটের মধ্যে ফরাশগঞ্জের মিলন সমতা ফেরানোর দারুণ একটা সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বল পোষ্টে রাখতে পারেননি। কমলও গোলের সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে না পারায় এগিয়ে দিতে পারলেন না দলকে। আবার রনির হেড গেল বাইরে। গোল শোধের জন্য ফরাশগঞ্জর পিন্টু দাস হেড নিয়ে শেষ সুযোগটি নষ্ট করেন বল সাইড পোষ্ট ঘেষে বাইরে চলে যাওয়ায়। এরপর খেলার ৭৫ মিনিটে ঘানাইয়ান ফ্রাঙ্কের বল পেয়ে লাকিপল এবারও সহজ সুযোগে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন (২-০)। সন্ধ্যায় মোহামেডান ২-০ গোলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল নৌবাহিনীকে হারালেও এ জন্য পেশাদার লিগের দলটিকে বাড়তি ঘাম ঝরাতে হয়েছে। পেশাদার ফুটবল লিগের ক্লাবটির সাথে তুলনা হয় না সার্ভিসেস দলটির। তারপরও মোহামেডানের পেশাদার খেলোয়াড়দের সাথে সমানে পাল্লা দেয়ার চেষ্টা করেছেন নৌবাহিনীর কামাল, মোনায়েম, জসিম, গালিব, মিন্টু, আলিম, শাকিলরা। রক্ষণভাগ মাঝমাঠে ভালো খেললেও মোহামেডানের আক্রমণভাগ ছিল অগোছালো। নৌবাহিনীর গোলকিপার পারভেজ মোহামেডানের বিরুদ্ধে যেন একাই লড়েছেন। তার নৈপুণ্য চোখে পড়েছে। মোহামেডানের প্রথম গোলটি আসে প্রথমার্ধের ‘ইনজুরি টাইমে’ ইয়াসিনের জোগান থেকে বল পেয়ে তপু বর্মনের নেয়া কোণাকুণি শটে ১-০। নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার ওসে মরিসন ৬২ মিনিটে দূর থেকে শটে বল জালে পাঠালে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। গোল দুটির আগেপরেও সুুযোগ পেয়েছিল মোহামেডান। কিন্তু শরিফুল, মরিসন, সোহেল, মোবারকরা ব্যর্থ হন প্রাপ্ত সুযোগগুলো কাজে লাগাতে। কোচ সাইফুল বারী টিটু আক্ষেপ করে বললেন, ‘এই দলের (নৌবাহিনী) বিরুদ্ধে আরো বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া উচিত ছিল। হ্যাটট্রিকও হতে পারত মরিসনের। কিন্তু এতো মিস হলে কিভাবে সম্ভব। তারপরও সবচেয়ে বড় কথা শুরুটা হলো জয় দিয়ে।’ অপরদিকে নৌবাহিনীর কোচ মো. সগির বলেন, ‘আমাদের দুই বছর পর পর আন্তঃবাহিনী ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়। বাইরে গিয়ে খেলার সুযোগ কম। আমাদের লক্ষ্য ছিল বড় দলের বিরুদ্ধে হারের ব্যবধানটা যত কম হয়। সেটা হয়েছে।’ আজকের খেলা বিজেএমসি ঃ আরামবাগ এবং শেখ রাসেল ঃ ব্রাদার্স (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, ৫-৩০) ও ৭-৩০ এবং, মুক্তিযোদ্ধা ঃ আবাহনী (কমলাপুর স্টেডিয়াম, ৩টা ১৫)।