ক্রিকেট খেলায় ঘাস নিয়ে সবসময়ই আলোচনা থাকে। তবে সে আলোচনাটা হয় উইকেটের ঘাস নিয়ে। কিন্তু কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আলোচনা বলুন, আর বিতর্ক বলুন; সবই জমে উঠেছে আউটফিল্ডের ঘাস নিয়ে!
কলম্বো টেস্টের প্রথম দিন প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম সবাইকে হতভম্ব করে দিয়েছিল বাউন্ডারি লাইনের কাছে জঙ্গলের মতো ঘাস দিয়ে। কিন্তু কাল, দ্বিতীয় দিন সকালেই মনে হল বাউন্ডারি লাইনের সে ঘাস উধাও হয়ে গেছে!
এই ‘ঘাস উধাও’ নিয়ে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোতে অনুসন্ধানী দর্শকদের প্রশ্নবন্যা শুরু হয়ে গেল সকালেই। বেশিরভাগ দর্শক-পাঠক মূলত ‘ষড়যন্ত্রের’ গন্ধ পাচ্ছিলেন। তারা মনে করছিলেন, শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংকে মাথায় রেখে ইচ্ছে করে আগের দিনের ‘জঙ্গল’ কেটে সাফ করা হয়েছে; যাতে লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা সহজে বল বাউন্ডারিতে পাঠাতে পারেন।
কিন্তু বাস্তবতা হল এই ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের কোনো উপস্থিতি ক্রিকইনফোও অনুসন্ধানে খুঁজে পায়নি। প্রথমেই তারা কিউরেটরের বরাত দিয়ে এটা জানিয়ে দিয়েছে যে, হ্যা ঘাস কাটা হয়েছে। তবে সেটা নিয়ম অনুযায়ীই কাটা হয়েছে।
টেস্ট খেলায় প্রথম দিনের মতোই বাকী পাঁচ দিন মাঠে ঘাস রাখার নিয়ম। সে অনুযায়ী প্রতিদিন সকালে ম্যাচ রেফারি বা রিজার্ভ আম্পায়ারের উপস্থিতিতে সামান্য ঘাস কাটতে হয়; যাতে আগের রাতের বেড়ে ওঠা ঘাস বাড়তি বিড়ম্বনা তৈরি না করে।
গতকাল পরিস্থিতি বিতর্কের দিকে যেতে পারে ভেবেই কি না, ম্যাচ রেফারি ডেভিড বুন স্বয়ং এই ঘাস কাটা তদারক করেছেন। পরে এই সর্বব্যাপী প্রশ্নবানের মুখে ক্রিকইনফো থেকে যোগাযোগ করা হয় কিউরেটর অনুরুদ্ধা পোলোনোইতার সঙ্গে। তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী যতোটুকু কাটার কথা, ততোটুকুই ঘাস কাটা হয়েছে।
তবে এসব জবাবে সন্তুষ্ট নন, পাঠকরা। তাদের দাবি, চোখে দেখে ঘাস অনেক বেশি ছোট করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এই মনে হওয়া নিয়ে তো আর কথা চলে না!
