আজ সোমবার ভোর ৬টা থেকে সারাদেশে ১৮ দলের ৪৮ ঘণ্টার লাগাতার হরতাল শুরু হচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হবে এই হরতাল। সরকার পতনে একদফার আন্দোলনের ঘোষণার পর বিরোধী জোট প্রথম এই হরতাল পালন করতে যাচ্ছে। গত ১১ মার্চ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশী তাণ্ডব ও সিনিয়র নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে ওইদিনই দলটির স্থায়ী কমিটি ও ১৮ দলীয় জোটের সভা থেকে সরকারকে এই মর্মে আল্টিমেটাম দেয়া হয় যে, ১৪ মার্চের মধ্যে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি না দেয়া হলে ১৮ ও ১৯ মার্চ সারাদেশে হরতাল পালন করবে ১৮ দল। সরকার এই আল্টিমেটাম মানেনি। তাই আজ থেকে হরতাল। বিএনপির পক্ষ থেকে গতকাল বলা হয়েছে যে, হরতালে সরকার বড় ধরনের সহিংসতা করলে বৃহস্পতিবারও হরতাল দেয়া হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের আলোচনার প্রস্তাব সাজানো নাটক। সরকারকে বিদায় করতে বিএনপিকে এখন প্রস্তুতি নিতে হবে। গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে ভাসানী ভবন মিলনায়তনে দলের এক সভায় মির্জা ফখরুল নেতা-কর্মীদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ ও হরতাল সর্বাত্মকভাবে সফল করার আহ্বান জানান। হরতালের পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে এই সভা হয়। তিনি বলেন, গুলি করে মানুষ হত্যা করে ৭২-৭৫ আমলে বাকশালী সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারেনি, যত নির্যাতনই করেন না কেন শেষ রক্ষা হবে না। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে এই সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, যুগ্ম আহবায়ক কাজী আবুল বাশার, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আবু সাইদ খান খোকন, এম এ কাইউম, শিরিন সুলতানা, শামসুল হুদা প্রমুখ।
হরতালের সমর্থনে মিছিল
ওয়ারী থানা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে হরতাল সমর্থনে একটি মিছিল রথখোলা মোড় থেকে শুরু হয়ে টিপু সুলতান রোড বনগ্রাম রোড হয়ে বিসিসি রোড বটতলার মোড়ে শেষ হয়। মিছিলে কাজী আবুল বাশার, দেওয়ান আবদুল হাই, আমির হোসেন, লুত্ফর রহমান ঝিলু, শহিদুল হক শহিদ, মাফুজুল হক মনা প্রমুখ নেতৃত্ব দেন।
সুত্রাপুর থানা বিএনপি একটি মিছিল বের করলে পুলিশ এসে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন হারুন অর রশিদ, মজিবর রহমান আনু, আখতার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন মোঃ লিটন প্রমুখ। এখান থেকে মিঠু নামে বিএনপির একজন কর্মীকে গ্রেফতার করে। এছাড়া মুগদা থানা বিএনপির একটি মিছিল মানিকনগর পুকুরপাড় থেকে শুরু হয়ে বিশ্ব রোডে আসলে পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
