অতিথির জন্য প্রস্তুতি

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৩, ১৮:২২
নিজের বাড়িটি সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে মন চায় সবার। আর সাজানো গোছানো বাড়ি থেকেই পাওয়া যায় বাড়ির গৃহিণীটির সুন্দর মানসিকতার পরিচয়। তাই আন্তরিক আপ্যায়নের পাশাপাশি সুন্দর অন্দরসাজ দিয়ে অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দেখবেন, অতিথি শুধু খুশিই হবে না, তার সাথে আপনার সম্পর্ক হবে আরও মধুর। পরিপাটি করে বাড়ি সাজানোর গাইডলাইন নিয়ে আমাদের এবারের মূল ফিচার। লিখেছেন খালেদ আহমেদ নিকট আত্মীয় হোক কিংবা বন্ধু, কয়েকদিনের জন্য আপনার বাসায় বেড়াতে আসবে ভাবলেই মনের ভেতর আনন্দ খেলা করে। হৈচৈ, আড্ডা, গতানুগতিক দিন যাপনের বাইরে অন্য রকম কয়েকটি দিন। তাই প্রস্তুতিতেও কোনো ক্লান্তি নেই। আর সবার সঙ্গে এই খুশির মুহূর্ত ভাগ করে নিতে কে না চায়। তাই বাড়ির ঘরদোর একটু সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে পারলে ভালোই হয়। অতিথিকে স্বাগত জানানোর জন্য আপনার একটু যত্ন আর আন্তরিকতাই যথেষ্ট। আদর-যত্নের সঙ্গে অতিথিদের প্রয়োজন ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মনে রাখলে দেখবেন বাড়ি সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে খুব বেশি কিছু দরকার নেই। আপনার সময় ও উপযোগিতা অনুযায়ী একটু ভেবে নিন, তাহলেই হবে। পরিচ্ছন্নতা খুব সুন্দর ও ঝকঝকে থাকলে মন এমনি ভালো থাকে। একদম নিখুঁত, পরিপাটি না হলেও ঘর যেন পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন থাকে। অপরিচ্ছন্ন ঘরে কিন্তু খুশি মনে থাকা যায় না। তাই প্রথমেই গুরুত্ব দিন ঘর পরিষ্কারের বিষয়ে। একা পুরো বাড়ি গোছাতে গেলে যেমন বেশি সময় লাগবে, তেমনি তাড়াহুড়োর জন্য সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষও করা মুশকিল হবে। সে জন্য পুরো বাড়ির দিকে নজর দেওয়ার পরিবর্তে প্রথমে গেস্টরুমের দিকে নজর দিন। গেস্টরুম :গেস্টরুমের ওয়ারড্রোবে অতিথির পছন্দসই ফ্যাব্রিকের বেডকভার, তোয়ালে, মশারি, বডিসোপ, শ্যাম্পু, পারফিউম গুছিয়ে রাখুন। ঘরে পরার স্লিপারস, নাইটওয়্যার ধীরেসুস্থে অ্যারেঞ্জ করতে পারেন। বেডসাইট টেবিলে অ্যালার্ম ক্লক, পানির গ্লাস, রিডিং ল্যাম্পের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো রাখতে ভুলবেন না। সেলফোন, ডিজিটাল ক্যামেরা চার্জ দেওয়ার জন্য মাল্টিপ্লাগ এক্সটেনশন কর্ড রাখুন। ওষুধ ও এন্টিসেপটিক ক্রিম বা লোশন মেডিসিন বক্সে রাখুন। বেডরুম-ড্রয়িং রুম :বেডরুম ও ড্রয়িং রুমের দায়িত্ব নিজের হাতে রাখুন। বেডরুমে পরিছন্ন বেড কভার ও ম্যাচিং করে পিলো কভার রাখুন। ঘরের কোণায় জমে থাকা ঝুল, মাকড়সার জাল পরিষ্কার করুন। ঘরে পুরোনো পর্দার বদলে পরিচ্ছন্ন পর্দা লাগান। ফার্নিচারের ধুলা-ময়লা পরিষ্কার করুন। কুশন কভার বদলে ফেলুন। বেডরুমে এয়ারফ্রেশনার ব্যবহার করুন। কিচেন ও ডাইনিং রুম :কিচেন, ডাইনিং রুম পরিষ্কার রাখার জন্য বাড়ির সকলের সাহায্য নিন। তাহলে নিজের ওপর খুব বেশি চাপ পড়বে না। কিচেনের সিঙ্ক ঝকঝকে রাখার চেষ্টা করুন। ডাইনিং টেবিলের ম্যাটগুলো পরিষ্কার আছে কি না দেখে নিন। বাথরুম :সাবান, শ্যাম্পু, তোয়ালে, টুথব্রাশ, টুথপেস্টের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতের কাছে না থাকলে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়। তাই এগুলো ঠিকমতো আছে কি না খেয়াল রাখুন। গেস্ট আসার আগেই বাথরুমের সামনে ডোরম্যাট রাখুন। বাথরুমের অন্যান্য জিনিস যেমন ব্যবহারের কল, কমোড, ফ্ল্যাশ ঠিক আছে কি না চেক করুন। বাথরুমের বেসিন পরিষ্কার রাখুন। সাথে বাথরুমে পরিষ্কার বাস্কেট রাখুন। কিডস রুম :শিশুরা নিজেদের রুম পরিষ্কার করতে বেশ উত্সাহ পায়। তাই তাদের রুমটি পরিষ্কার করার দায়িত্ব তাদের দেওয়াই ভালো। তবে পুরো ব্যাপারটি আপনি মনিটর করার চেষ্টা করুন। প্রত্যেকটি ঘর নিখুঁত করে গোছানোর সময় যেহেতু হাতে নেই, সে জন্য ঘরে ঢুকে যে জিনিসটি চোখে লাগে সেটা গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। এতে ঘরগুলো ঝকঝকে দেখাবে। এরপর বাড়ির যেখানে খবরের কাগজ, পুরোনো জিনিসপত্র থাকে সেই স্টোর রুমটিও পারলে গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ অতিথির জন্য ঘর সাজানো ও গুছানো যেমন জরুরি, তেমনি তারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারেন, তারও বন্দোবস্ত করতে হবে। ওয়ারড্রোব অ্যারেঞ্জমেন্ট গেস্টরুমে আলাদা করে করতে পারলে ভালো। আর না থাকলে আপনার নিজের ঘরের ওয়ারড্রোবে একটি ড্রয়ার তাকে ফাঁকা করে দিতে পারেন। স্পেস অ্যারেঞ্জমেন্ট :অন্যান্য ঘরের তুলনায় একটু লম্বাই হয় ড্রয়িংকাম ডাইনিং রুম। সোফা সরিয়ে একটু জায়গা করে নিতে পারেন। সেখানে রেডিমেট ম্যাট্রেস পেতে দিন। এতে আপনার ও অতিথিদের চলাফেরায় স্বচ্ছন্দ হবে। অতিথিদের জিনিসপত্র বিশেষ করে স্যুটকেস, ট্রলিব্যাগ রাখার জন্য ক্যাবিনেটে আলাদা জায়গা করে দিতে পারলে ভালো হয়। খাটের তলায় জায়গা থাকলে সেখানেও গুছিয়ে রাখার ব্যবস্থা করুন। সাজসজ্জা উজ্জ্বল পর্দা, ঝকঝকে বেডকভার, ফাইন টেবিল অ্যারেঞ্জমেন্ট—একঝলকে এগুলো দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। শিশুরা সহজেই কার্পেট বা বেডকভার নোংরা করে। তাই খুব দামি ও কারুকার্যময় বেডকভারের প্রয়োজন নেই। সুতির আরামদায়ক বেডকভারই যথেষ্ট। ম্যাট্রেস ও বেডশিটের মধ্যে প্ল্যাস্টিক বা অয়েল ক্লথ পেতে রাখুন। ছোট বাচ্চারা না এলে একটু ভালো লিলেনের বেড কভার পেতে রাখতে পারেন। তবে এরসঙ্গে ম্যাচিং বালিশও রাখতে ভুলবেন না। খুব বেশি সময় না থাকলে ভারী কার্পেট বিছানোর দরকার নেই। খাওয়াদাওয়া বাড়িতে অতিথি আসছে, শুনলে প্রথমেই মনে হয় খাওয়াদাওয়ার অ্যারেঞ্জমেন্ট কী হবে। অতিথিদের পছন্দসই খাবারের তালিকা আগে জেনে নিন। তারপর সেই অনুযায়ী খাবার রান্নার চেষ্টা করুন। সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, বিকেলের হালকা খাবার ও রাতের খাবার সব মিলিয়ে খাওয়াদাওয়াটা যেন সবার মনের মতো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। আর অতিথি বাড়িতে আসার আগেই পর্যাপ্ত বাজার করে রাখুন। এ সময় ভালো বিস্কুট, কেক, মিষ্টি, দই ও আইসক্রিম কিনে রাখুন। মাঝে একদিন অতিথিদের নিয়ে বাইরের কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে যেতে পারলে ভালো হয়। কিছু টিপস  যে কয়েকদিন বাড়িতে অতিথি থাকবে, সেই সময়টায় দু’জন কাজের লোক রাখুন। একজন প্রতিদিনের মতোই কাজ করবে। আরেকজন বাড়ি গোছানোতে সাহায্য করবে। তবেই অতিথিদের সাথে আপনি কোয়ালিটি টাইম কাটাতে পারবেন।  বাড়ির কাছের রেস্টুরেন্ট, সুপার মার্কেট ও সিনেপ্লেক্সের ফোন নাম্বার ম্যানেজ করে রাখবেন। প্রয়োজনে কম সময়ে কিছু আনিয়ে নিতে পারবেন।  নিজের গাড়ি না থাকলে কয়েকদিনের জন্য একটি গাড়ি ভাড়া নিতে পারেন। এতে অতিথিদের নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে যেতে পারবেন।