ব্রিটিশ কাউন্সিলে আইন পড়ছে পূর্ণতা। এর বাইরে একটা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে কাজ করছে সে অনেকদিন হলো। এর মাঝে গানের চর্চা, বান্ধবীর বোনের হলুদে নাচের আয়োজন করা, ছোট ভাই বোনের পড়াশোনার খোঁজ-খবর রাখা—এতো কিছু একসঙ্গে সামাল দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় মাঝে মাঝে। আর এই কাজগুলোই সমন্বয় করে নিতে চাই অনেক দক্ষতা। কীভাবে অনেক কাজ সামলে নিবেন, শিশুকেই বা কীভাবে দায়িত্বশীল করে তুলবেন তাই নিয়ে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
কাজের চাপ জীবনে কম নয়। তাই প্রাইওরিটি অনুসারে কাজ সাজাতে হবে, তারপর টপ প্রায়োরিটি কাজগুলো শুরু করতে হবে, বাকিগুলোর দরকার নেই। জাস্ট ভুলে যান। এভাবে যে আপনি জীবনে করেননি তা নয়, তবে যেটা প্রায়োরিটি কম সেটার যে প্রয়োজন একেবারে নেই তা না। একেবারে বাতিল করাটা কি ঠিক হবে? এই দ্বিধা থেকেই বের হতে পারি না আমরা।
বেসরকারি একটি ব্যাংকে কর্মরত ফয়সাল জামাল বলছিলেন, ‘অনেক কাজ যখন একবারে আসে তখন মাথা খারাপ হয় যায়, তারপরও সব কাজ যখন ঠিকমতো গুছিয়ে করি তখন খুব ভালো লাগে। কথা সত্যি। এরচেয়ে আনন্দের কিছু নেই। আমি যা করি, কাজের প্রয়োজন অনুসারে সাজাই। তারপর চেষ্টা করি একটার পর একটা করে যেতে, যদ্দূর সাধ্যে কুলায়। পরবর্তীতে সময় পেলে সেইগুলো ধরি। দেখা যায়, কিছু কাজ লিস্টের পিছনের দিকে থাকতে থাকতে আর করাই হয় না। কাজ পরে থাকলে ভালো লাগে না। একটা বইয় পড়েছিলাম, পরে করব ভেবে রেখে দিলে সে কাজ আর করা হয় না। কথা সত্যি। যেহেতু সব কাজ একবারে করার সময় পাই না, তাই যে কাজই করি খুব ভালোভাবে পারফেক্ট ভাবে করার চেষ্টা করি।’ আসলে, তাড়াহুড়ো করে করলে পরে সেটাই আরও বড় সমস্যা হয় দাড়িয়ে যায়। এরচেয় ধৈর্য ধরে ভালোভাবে করলে, কাজ তো ভালো হয়ই সেই সাথে আরও কিছু কাজও কমিয়ে দেয় পরবর্তীতে। ঢাকা শহরের বড় একটা আইটি কোম্পানির হার্ডওয়ার ইঞ্জিনিয়রা মেহেদী হাসান বলছিলেন, ‘মাঝে মাঝে একবারে প্রচুর কাজ জমে। তখন মাথা ঠাণ্ডা রাখাই মুশকিল। সবাই সবারটা আগে চায়। বস চায় একবারে সব কাজ। হঠাত্ কোনো কূল খুঁজে পাই না। এ সময় কিছুটা সময় দিই নিজেকে ধাতস্থ হতে। তারপর একটার পর একটা কীভাবে করব তার প্ল্যান করে ফেলি। এরপর মাথার উপর যে যতই চেঁচামেচি করুক, আমার প্ল্যান অনুসারে একটা একটা করে শেষ করতে থাকি। ভালোই লাগে, সব গুছিয়ে এনে কাজ শেষ করতে পারলে।’
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আমিনুর রহমান জানালেন, খুব ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুকে নিজের কাজ নিজে করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাহলে সে অভ্যাস তার থেকে যাবে সারাজীবন। তাহলে ভবিষ্যতে কখনোই অন্য কারও ওপর তাকে নির্ভর করতে হবে না। মানিয়ে নিতে পারবে যেকোনো পরিবেশে। এ প্রশিক্ষণটি দেওয়ার দায়িত্ব পরিবারেরই। যদি সব অভিভাবকই সন্তানকে এভাবে ছোটবেলা থেকেই প্রশিক্ষণ দেন নিজের কাজ নিজে করার জন্য, তাহলে ওই অভ্যাসটি শিশুর মনে থেকে যাবে সারাজীবন। নিজের কাপড়গুলো গুছিয়ে রাখা, স্কুল থেকে ফিরে এসে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ নির্দিষ্ট স্থানে রাখা, পড়া শেষে পড়ার টেবিল ঠিক করে রাখা, বাইরে থেকে এসে নিজে নিজে হাত-মুখ ধোয়া ইত্যাদি সহজ কাজ করার অভ্যাস যদি ছোটবেলা থেকে গড়ে তোলা যায়, তাহলে আপনার শিশুটি ছোটবেলা থেকেই যেমন গোছানো হবে, তেমনি বড় হয়েও যেকোনো পরিবেশে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে। ছোটবেলায় শিশুদের যা শেখানো হয় তা তারা সহজেই শিখে ফেলে এবং এ অভ্যাসগুলো সারাজীবনের জন্য স্থায়ী হয়ে যায়। এসব ক্ষেত্রে সব থেকে বড় ভূমিকা মা-বাবার। ছোটবেলা থেকে যদি না শেখানো হয়, তাহলে বড় হয়েও এ অভ্যাসগুলো আয়ত্তে আনতে সমস্যা হয়।
চারপাশের পরিবেশ একটি শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকাংশে মা-বাবার শিক্ষার শিশুর জন্য বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রতিটি শিশুর বেড়ে ওঠার সময় মা-বাবাকে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রত্যেক শিশু বেড়ে ওঠার সময় তার আশপাশের যে কাউকে অনুকরণ করতে পছন্দ করে। ওই অনুকরণে কখনও ভালো কিছু হয়, কখনোবা খারাপ। তাই খেয়াল রাখতে হবে, সে যেন শুধু ভালোগুলোই গ্রহণ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিবারই প্রথম ও শ্রেষ্ঠ পাঠশালা। শিশুকে ধমক না দিয়ে বরং বুঝিয়ে বললে সে নতুন কিছু শিখতে পারে। তাই আমাদের মধ্যে যাদের ধমক বা মার দেওয়ার প্রবণতা আছে, তা পরিহার করতে হবে। আমাদের একটু চেষ্টা ও সচেতনতা দিতে পারে শিশুকে একটা সুন্দর, সাজানো-গোছানো ভবিষ্যত্।
