জবসলাইফ

নতুন চাকরিতে আপনি

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৩, ১৮:২৭
আজকাল চাকরির ক্ষেত্র অনেকটা প্রশস্ত হওয়ায় অনেকেই নিজের প্রয়োজনমতো চাকরি বদল করেন। বিভিন্ন অফিসে নিয়মকানুনের ভিন্নতা থাকায় নতুন কর্মক্ষেত্র মানিয়ে নেওয়াটা অনেক সময় মুশকিল হয়ে পড়ে। নতুন চাকরির পরিস্থিতি পরিবেশে কেমন হওয়া উচিত আপনার পোশাক আর আচার-আচরণ তা জেনে নিন চাকরিটা আপনি পেয়ে গেছেন সত্যি! অভিনন্দন। কঠিন কাজটাই তো সারা ভাবছেন। ঠিক তা না, নতুন প্রতিষ্ঠানে কোম্পানিতে প্রথম কয়েকটা সপ্তাহ কিন্তু দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর ওপরই নির্ভর করবে আরাধ্য চাকরিটা না হারানো বা ভবিষ্যতের উন্নতি। নতুন চাকরির কারিগরি দিকগুলো সম্পর্কে ওস্তাদ হওয়াটাই কেবল প্রয়োজন তা নয়, নতুন কর্মক্ষেত্রে আপনার আচরণ কী হবে তাও কিন্তু সমান গুরুত্বপূর্ণ। নতুন চাকরির শুরুতে নিচের কয়েকটি মারাত্মক ভুল করা থেকে বিরত থাকুন। পোশাক-আশাক নতুন অফিসের ড্রেসকোড জেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। একেক অফিসে একেক রকম নিয়ম থাকে। বেশিরভাগ অফিসে ফর্মাল পোশাক পরতে হয়, আবার কোনো অফিসে সেমিফর্মাল পরা যায়। আসলে কোন ধরনের সংস্থায় আপনি কাজ করছেন তার ওপর নির্ভর করবে কোন ধরনের পোশাক আপনার পরা উচিত। ড্রেসকোড জানা না থাকলে প্রথম দিন ফর্মাল পোশাক পরাই ভালো। মেয়েরা শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ পরতে পারেন। ছেলেরা ফর্মাল শার্ট-প্যান্ট, সঙ্গে টাই পরতে পারেন। অফিসে কখনই টি-শার্ট পরবেন না। অফিসে পরার কাপড়টি যেন পরিষ্কার থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। সব সময় ইস্ত্রি করা, ওয়েল ফিটেড জামা-কাপড় পরুন। অফিসের জন্য হালকা রঙের পোশাক বাছুন। বেজ, পিস, ব্রাউন রং অফিসের জন্য আইডিয়াল। তা ছাড়া সাদা বা কালো রঙের পোশাক অনায়াসে বাছতে পারেন। অফিসে খুব জমকালো পোশাক পরবেন না। আবার খোলামেলা বা বেশি টাইট পোশাক পরাও একেবারেই উচিত নয়। অফিসে মেয়েরা খুব ভারী কোনো গয়না পরবেন না। সেমিহিল বা ফ্ল্যাট জুতা পরতে পারেন। তবে স্লিপার পরবেন না। সাজগোজ সিম্পল রাখার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত মেকআপ করবেন না। ন্যাচারাল লুক অফিসের জন্য পারফেক্ট। চুল বেঁধে রাখাই ভালো। এতে আপনাকে গোছানা লাগবে আর কাজের সময়ও চোখে-মুখে চুল পড়ে অস্বস্তি সৃষ্টি করবে না। আচার ব্যবহার পুরোনো অফিসের সঙ্গে নতুন অফিসের টাইমিং নাও মিলতে পারে। নতুন টাইমিংয়ে অভ্যস্ত হতে হয়তো প্রথমদিকে একটু অসুবিধা হবে। তবে কোনোভাবেই লেট করবেন না। সময়ের আগেই পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করুন। কাজের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখুন। উত্সাহ এবং উদ্দীপনা দেখান। নতুন কাজ বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করুন। কাজের ধরন বুঝতে সমস্যা হলেও মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। প্রথম থেকেই নিজ উদ্যোগে কাজ করুন। কখন কেউ এসে কাজ দেবে এই অপেক্ষায় বসে থাকবেন না। এতে আপনি তাড়াতাড়ি কাজের পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। পার্সোনাল কোনো কাজ নিয়ে অফিসে আসবেন না। যতটা সম্ভব প্রথম দিন পার্সোনাল ফোন এড়িয়ে যান। খুব জরুরি না হলে নিজস্ব মেইলও চেক না করাই ভালো। কথাবার্তা সহকর্মীদের সঙ্গে হাসিমুখে আলাপ-পরিচয় করুন। প্রথম থেকেই অতিরিক্ত ফ্রেন্ডলি হওয়ার দরকার নেই। সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুন। যেকোনো ব্যাপারে প্রশ্ন করতে লজ্জা পাবেন না। প্রথম থেকেই যে আপনি নতুন অফিসের কাজকর্ম বুঝতে পারবেন সেটা নাও হতে পারে। সুতরাং সিনিয়র এবং সহকর্মীদের সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না। এতে সহকর্মীরা আপনার সঙ্গে সহজভাবে মিশতে পারবেন। নতুন অফিসে অনেকেই আপনাকে পুরনো অফিস সম্পর্কে নানা প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি কেন চাকরি বদল করলেন, আগের অফিসের কী অসুবিধা ছিল ইত্যাদি। এতে বিরক্ত বোধ করবেন না। সব প্রশ্নের উত্তর দিতে না চাইলে কৌশল করে এড়িয়ে যান। প্রতিষ্ঠান সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করা একটি গবেষণায় ২৫০ জন বিজ্ঞাপন ও বিপণন নির্বাহীর ৪০ শতাংশ সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করেছেন, কর্পোরেট সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়াটাকে। প্রয়োজন হলে অফিসে ৩০ মিনিট আগে যান ও কাজ শেষ হওয়ার পরেও কিছুক্ষণ থাকুন। দেখুন, কর্মীরা কফি খেতে কোথায় যায়? দুপুরের খাবারটা কোথায় সারে? কোম্পানি সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে আপনাকে হবেই। ঔদ্ধত্য দেখানো চাকরি পাওয়ার পর নিজেকে কোম্পানির ত্রাণকর্তা ভেবে সবকিছুই নিজের মতো করতে যাবেন না। এর বদলে শোনেন, দেখেন ও শেখেন। নিজেকে লুকিয়ে রাখা ঔদ্ধত্যের বিপরীত দিক নিজেকে আড়াল করে রাখাটাও কিন্তু খারাপ। এর বদলে চাকরিতে ঢোকার প্রথম দিন থেকেই কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে থাকুন। আপনার প্রতি প্রত্যাশা পরিষ্কার না জানা আপনি যখন জানবেন না আপনার কাছ থেকে কোম্পানি কী আশা করে, তখন তা আপনি কোম্পানিকে দেবেন কী করে। তাই দেরি না করে আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে আপনার পদের দায়িত্ব ভালো করে বুঝে নিন। ভুল স্বীকার না করা প্রত্যেকেই ভুল করে, আর নতুন চাকরি পাওয়া কর্মীরা তো অনেক ভুল করেই। কিন্তু ভুল যতই করুন না কেন, ভুল স্বীকার না করার ভুল কখনই করবেন না।