ইন্টেরিয়র

সাদায় স্নিগ্ধতা

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৩, ১৮:২৯
একটি রঙে সাজানো হলেও ঘরে বর্ণিলতার অভাব নেই, সাদার আবেদন এমনই চিরন্তন। সাধারণত সরলতা, শক্তি, শুভ্রতা আর তারুণ্যের প্রতীক এই সাদা রং। রং ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা নিজেদের অজান্তেই আমাদের রুচি, অনুভূতি, দৃষ্টিভঙ্গি, সরলতা ইত্যাদি প্রকাশ করে থাকি। রঙের ভাষা কী? কেমন? কিভাবে প্রকাশ করা হয়? আপনার অন্দরে কীভাবেই বা প্রকাশ করবেন সাদাকে? একটু ভিন্নভাবে তুলে ধরলেই কিন্তু চিরায়ত রূপটা পালটে যেতে পারে, সাদাই আনতে পারে অপূর্ব কোনো ব্যঞ্জনা। সাদার স্নিগ্ধতাইয় আপনার অন্দর কেমন সাজবে, তাই নিয়ে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র বসার ঘর থেকেই শুরু হতে পারে আপনার সাদায় সম্ভাষণ। বাসায় ঢুকে প্রথমেই চোখে পড়ে এই ঘরটা। কেউ চাইলে পুরো ঘরটাই সাদা বা হালকা অফ হোয়াইট রং করে নিতে পারেন। অল্প পরিসরের ঘর হলে তো সাদার জুড়ি নেই, আপনার ঘরটা বেশ বড় মনে হবে তখন, খোলামেলাও মনে হবে। আর পর্দাতেও থাকতে পারে সাদার ছোঁয়া, এটা দেখতে যেমন স্নিগ্ধ লাগে, তেমনি এই পর্দা তাপ শোষণ করে না, ফলে ঘর গরম হয় না। এ তো গেল সাদা পর্দার কাজের ফিরিস্তি। কিন্তু কোন ঘরে কোন ধরনের সাদা আর হালকা রঙের পর্দা লাগাবেন, সে সম্পর্কে বললেন আর্কিটেক্ট তানজিল ইদমাম শফিক, বসার ঘরের পর্দা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে, যেন বসার ঘরের প্রতিটা আসবাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকে। পর্দার রং যদি এর বিপরীত হয়, তা হলে দেখতে অনেক বেশি ভালো লাগে। সাদার মাঝে হালকা কাজ করা পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে এখানে। বসার ঘরে ব্যবহূত কুশনের মাঝে ব্লক করা কিংবা সুতার কাজ করা থাকে, এতে পুরোপুরি সাদা ভাবটা কেটে যায় আবার স্নিগ্ধতাও থাকে। আর যদি সাদার মাঝে একটা অন্য রঙ ব্যবহার করা হয়, সেটা অনন্যভাবে ফুটে ওঠে। যেমন সব সাদার মাঝে হঠাত্ সবগুলো কুশন লাল রঙের হলে দেখতে মন্দ লাগবে না, বরং আলাদা একটা আবহ তৈরি করবে। আর রঙের এবং পর্দার এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে পুরো বাসার সব জায়গাতে। করিডোরে হালকা সাদা রঙ ব্যবহার বেশ মানিয়ে যাবে, জায়গাটা একটু সংকীর্ণ হলে ওয়ালে কয়েকটা ফটোফ্রেম ঝুলিয়ে উপর থেকে স্বচ্ছ সাদা আলোর স্পটলাইট ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ছবির ফ্রেমের কালার অন্য কিছু হওয়া চাই, হোক সে কালো অথবা ধূসর। সাদা-কালোর একটা আলাদা আবেদন তো সব সময়ই রয়েছে। ঘরজুড়ে যখন সাদা রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে লাইটিংয়ের সময়ও সচেতন হতে হবে। দেখে নিন ঘরের দেয়ালে কয়টি বিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে। খুব ব্যয়বহুল কিছু করতে না চাইলে তিনটি পয়েন্টের জায়গায় পাঁচটি পয়েন্ট করতে পারেন এবং যদি ব্রাকেট লাইট ব্যবহার করা যায় আলো বেশি পাবেন। আলোর রঙের ব্যবহারটা রুচির ওপর নির্ভর করে। অনেকেই সাদা আলোটা পছন্দ করেন। এ ক্ষেত্রে ব্রাকেট লাইটে এনার্জি সেভার লাইট ব্যবহার করতে পারেন। কেউ যদি লালচে আলো চায় তো ব্রাকেটের ভেতরে ওয়ার্ম লাইট অনায়াসেই ব্যবহার করতে পারেন। সাদা ও লালচে দুই ধরনের আলো চাইলে ব্রাকেটে সাদা আলো রাখুন এবং ঘরের কোনায় টেবিল ল্যাম্প রাখুন। এতে দুই ধরনের আলোর স্বাদ পাবেন। সাদা, অফ হোয়াইট বা বেইজ হালকা ব্রাউন রং যদি আপনি ব্যবহার করেন তবে রঙগুলো থেকে ব্যাপক আলো ছড়াবে। মেঝে যদি সাদা মোজাইক বা সাদা টাইলস হয় তা থেকেও আলো বিচ্ছুরিত হয়ে ঘরকে উজ্জ্বল করবে। আর মেঝেতে বিছিয়ে দিতে পারেন ধূসর কোনো কার্পেট, সাদার মতো ময়লাও জমবে না, আবার মানিয়েও যাবে বেশ। আর্কিটেক্ট কী বলেন আর্কিটেক্ট তানজিল ইদমাম শফিক বলেন, ‘সাদা’র প্রথম শক্তিই এর স্নিগ্ধতা আর শুদ্ধতা, সাদা রং দেখলেই কারও মনে একটা শান্তির পরশ বুলিয়ে যায়। সেদিক থেকে ইন্টেরিয়রে সাদার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত, সাদার মাধ্যমে ছোট জায়গাকেও একটু বড় বড় মনে হয়। তবে খেয়াল রাখা দরকার অনেক বড় জায়গাতে সাদা ব্যবহূত হলে একঘেয়েমি বিষয়টা চলে আসতে পারে। তখন অন্য মানানসই কোনো রঙে সামঞ্জস্য আনতে হবে। অফিসের ইন্টেরিয়রেও সাদার মাঝে নির্দিষ্ট রং ব্যবহার করে ব্র্যান্ডিংটা করা যায় অনায়াসেই। সাদা ব্যবহারের বড় চ্যালেঞ্জ পরিষ্কার রাখা, যত সুন্দর করে সাদায় ঘর সাজানো হোক, পরিষ্কার রাখতে না পারলে সেটা বৃথা।’