কৈশোরেই আলোচনায় এসেছিলেন মুত্তিয়া মুরালিধরণের উত্তরসুরী হিসেবে। কিন্তু একদিকে দলে মুরালিধরণের উপস্থিতি এবং শুরুতে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে না পারায় ‘নতুন মুরালি’ নামটা সত্যি বলে প্রমান করতে পারছিলেন না। কিন্তু যেই না মুরালিধরণ অবসরে গেলেন; অমনি নতুন ত্রাস হয়ে উঠলেন ‘নতুন মুরালি’—রঙ্গনা হেরাথ।
এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কান রেকর্ড বইয়ে নানাভাবে নিজের দাপটকে লিপিবদ্ধ করে ফেলা রঙ্গনা হেরাথ কতোটা ত্রাস হয়ে উঠতে পারেন, সেটা আরেকবার টের পাচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ‘পেস-বান্ধব’ বলে আওয়াজ তোলা এই প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের উইকেটে প্রথম ইনিংসেই নিজের ক্যারিয়ারের ১৫তমবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে বিপাকে ফেলেছেন। আর কাল বিকেলে কয়েক ওভারের ব্যবধানে বাংলাদেশের ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে একেবারে স্বপ্নজগতে আঘাত করেছেন।
শেষ বিকেলে রঙ্গনা হেরাথ হঠাত্ আবার এরকম ত্রাস হয়ে না উঠলে কালকে দিনটা হতে পারত তামিম ইকবাল ও জহুরুল ইসলামের অসামান্য প্রতিরোধের গল্প। এমনকি কালকের দিনটাকে সোহাগ গাজী ও তার সতীর্থ বাংলাদেশী বোলারদের গল্পের দিন বলেও দাবি করা চলতো।
কুমার সাঙ্গাকারা উইকেটে ছিলেন। ফলে গতকাল সকালে শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে ২৯৪ রান নিয়ে যখন ব্যাট করতে নামল; খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না বাংলাদেশ। কিন্তু এখানেই বাংলাদেশকে আরও একটা দিনের ভালো শুরু এনে দিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। আবুল হোসেন, মাহমুদউল্লাহ ও সোহাগ গাজী শ্রীলঙ্কাকে সকালে আর ৫২ রানের বেশি যোগ করতে দেননি। এর মধ্যে সোহাগ দুটি উইকেট নিয়ে সকালের নায়ক হয়ে উঠলেন।
তবে নায়ক’ হওয়ার আসল ইঙ্গিতটা দিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও জহুরুল ইসলাম। লাঞ্চের একটু আগে ব্যাট করতে নেমেছিলেন দু জন। আর চা-বিরতির তিন ওভার আগ পর্যন্ত রীতিমতো স্বপ্নের জাল বুনে চলছিলেন। এই টেস্টেই ইনজুরি থেকে ফেরা তামিম প্রথম ইনিংসে নিজের মতো খেলতে পারেননি। কালও ঘাস বারবার আটকে দিচ্ছিল তার ট্রেডমার্ক ব্যাকফুট ড্রাইভগুলো। তারপরও তামিমের শক্তির সঙ্গে আউটফিল্ডের বেয়াড়া ঘাসের পেরে ওঠার কথা নয়।
একেবারে তান্ডব না চালালেও বেশ দাপটের সঙ্গে ফিফটি করে ফেললেন তামিম। তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হল তামিম-জহুরুলের এই প্রতিরোধে চলতি সিরিজে প্রথমবারের মতো উদ্বোধনী জুটিতে ৫০ রানের দেখা পেল বাংলাদেশ।
একসময় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটিও পেয়ে গেল বাংলাদেশ। জাভেদ ওমর ও শাহরিয়ার নাফিসের ২০০৭ সালের কলম্বো (সিংহলিজ) টেস্টে করা ৮৬ রান টপকে ৯১ রানে পৌছে গেল তামিম-জহুরুল জুটি।
বাংলাদেশ তখন শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসের থেকে ১৫ রানে পিছিয়ে। তখন বাংলাদেশ বিনা উইকেটে এই রান টপকে নতুন শুরুর স্বপ্ন দেখতেই পারে। কিন্তু সেই সময়ই প্রথম আঘাতটা হানলেন এরেঙ্গা। ৫৯ রানে প্লেইড অন তামিম। দলীয় আর মাত্র ৫ রান যোগ হতেই হেরাথের প্রথম শিকার আশরাফুল। জহুরুল তখনও লড়ে যাচ্ছিলেন। সেই মধ্যযুগীয় ভঙ্গির ধীরগতিতে ব্যাট করে বাংলাদেশকে সময় কাটানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন তিনি।
কিন্তু হেরাথেরই একটা বাক নেওয়া ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে কী যেন হয়ে গেল জহুরুলের মাথায়। বেরিয়ে এসে মারতে গিয়ে ১৭০ বলে খেলা ৪৮ রানের ইনিংস শেষ করলেন স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়ে। পরের বলেই আউট চরম ফর্মহীনতায় ভোগা মাহমুদউল্লাহ। মুহুর্তে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ১৪৩ রানের দল হয়ে গেল।
শেষ পর্যন্ত আরেক প্রান্তে আবার ফিফটির ইঙ্গিত দিতে থাকা মোমিনুল ও গলের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর উইকেটে আছেন, এটাই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য ভরসার কথা। নইলে স্বপ্নটা হেরাথ ‘চুরি’ করেই ফেলেছেন।
