‘আবাসন ব্যবসায়ীরা ভূমির মালিকদের লোভী বানিয়েছে’

আপডেট : ০৫ মে ২০১৯, ২২:১০

শিগগিরই আসছে ‘নগর অ্যাপ’ :মেয়র আতিকুল

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা ভূমির মালিকদের লোভী করে তুলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা ভূমির মালিকদের কোনো কোনো জায়গায় ৫০ ভাগ, ৬০ ভাগ দিয়ে দিচ্ছেন। এর বাইরে নগদ টাকাও দিচ্ছেন। আপনারাই তাদের লোভি বানিয়েছেন। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘নগরায়ন এবং বিকেন্দ্রীকরণের ক্ষেত্রে আবাসন খাতের প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বিশেষ অতিথি ছিলেন। এ ছাড়া রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা চেম্বার সভাপতি ওসামা তাসীর সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, সরকারের ব্যবসা করা উচিত নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা প্রধানকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পালন করা উচিত ছিল। কিন্তু আমরা দেখি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ব্যবসা করে যাচ্ছে। তাদের কারণে জমির দাম দুইগুণ, তিনগুণ বেড়ে গেছে। আমরা আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকেও কোনো সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি না। এর জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, আপনারা ভূমি মালিকদের লোভী করে তুলছেন। আবার সরকারকে দোষারোপ করছেন, এটা ঠিক নয়। আপনারা শুধু উচ্চবিত্ত বা বড়লোকদের জন্য ফ্ল্যাট বানাচ্ছেন। অথচ ক্রেতাদের সামর্থ্যের মধ্যে বাড়ি বানানো উচিত ছিল। ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদের বিষয়ে তিনি বলেন, আপনারা তিন থেকে পাঁচ শতাংশের মধ্যে ঋণ চাইছেন কিন্তু আপনারা কি এই সুদে আমানত রাখবেন?

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, এই শহরকে নিরাপদ করে গড়ে তোলাটাই এখন চ্যালেঞ্জ। ঢাকা শহরের প্রতি বর্গফুট এলাকায় প্রায় ৪৯ হাজার মানুষ বসবাস করে। অধিক সংখ্যক এ জনগোষ্ঠীর সেবা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের অবশ্যই স্যাটেলাইট সিটি স্থাপন করতে হবে। তিনি বলেন, চলতি বছরের জুন/জুলাই মাসের মধ্যে রাজধানীর ২৭টি মাঠকে অত্যাধুনিক সুবিধাসম্বলিত খেলাধুলার উপযোগী করা হবে। তিনি জানান, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত করতে শিঘ্রই ‘নগর অ্যাপ’ নামে একটি অ্যাপভিত্তিক সেবা চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে কর প্রদানসহ সহজেই অন্যান্য সেবা নিশ্চিত হবে। স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।