গবেষণার বিকল্প নেই

আপডেট : ০৫ মে ২০১৯, ২২:১৪

ফয়সাল হাসান

একটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নের কিংবা শিক্ষার পরিবেশ কেমন  তা পরিমাপের মাপকাঠি হলো সেখানে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রম পর্যালোচনা। আসলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানোন্ননে গবেষণার বিকল্প কিছুই নেই। একটি বিশ্ববিদ্যালয় কতটা উন্নত বা বিশ্ববিদ্যালয়টি কতটা মানসম্মত, সেটি মূলত নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়টি কতটা উন্নত পর্যায়ের গবেষণা করছে কিংবা সেখানে গবেষণার জন্য কতটা উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এবং তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফলগুলোকে তারা কতটুকু বাণিজ্যিক উত্পাদনের কাজে ব্যবহার করছে।

আমাদের দেশে প্রতিবছর কয়েক লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রবেশ করছেন। কতটা অর্জিত হচ্ছে তাদের সেই লক্ষ্য? প্রতিযোগিতামূলক এই সময়ে টিকে থাকার জন্য তারা যথেষ্ট উপযোগী কিনা? বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থী নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পেরেছে কিনা সেটি শুধুমাত্র তার একাডেমিক ফলাফল দেখে বিচার করা যাবে না। বরং তিনি তার পাঠলব্ধ জ্ঞানকে গবেষণা কাজে ব্যবহার করতে পেরেছেন কিনা সেটিই মুখ্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো গবেষণার জায়গাটিতেই সবচেয়ে পিছিয়ে আছে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা প্রায় হয় না বললেই চলে। এই নেতিবাচকতার পেছনে মূল যে কারণটি রয়েছে সেটি হলো পর্যাপ্ত অর্থায়ন না থাকা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে সবসময়ই উদাসীন থাকে। এটিকে তেমন কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। যেমন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বাজেটে মাত্র ১৪ কোটি টাকা গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, যা ছিল মোট বাজেটের দুই শতাংশ। আবার, বাজেট যাই থাকুক না কেনো, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সে টাকাও যথাযথ খরচ করতে পারছে না। যেমন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ১৪ কোটি টাকার মধ্যে আট কোটি টাকা গবেষণার পেছনে খরচ হয়েছিল। দেশের বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থাও তথৈবচ।  সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দেশের মোট ১২৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতে কোনো টাকাই ব্যয় করেনি। আমাদের দেশের যে গুটিকতক গবেষণামূলক কাজগুলো হচ্ছে, তার প্রায় সবগুলোর অর্থই যোগান দেয় জার্মানি। অর্থাত্,  আমাদের তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে বাইরের দেশগুলোর দিকে। কিন্তু আমাদের দেশের নামিদামি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণায় অর্থায়ন করতে চায় না। এর প্রধান কারণ হলো, শিল্পকারখানাগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংক্রান্ত কোনো ধরনের সম্পর্ক এখন পর্যন্ত গড়ে তোলা যায়নি। তাদের ধারণা, এই ধরনের গবেষণায় বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। উন্নত দেশগুলোর প্রায় প্রতিটি শিল্পকারখানায় রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আরঅ্যান্ডডি) নামে একটি সেক্টর থাকে। এখানে সারাবছরই নানান পণ্য নিয়ে গবেষণা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থায়ন করে গবেষণা কাজ চালানোর জন্য। আমাদের দেশেও বর্তমান প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার জন্য এই সংস্কৃতির প্রসার খুব প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা কাজের মূল কেন্দ্রবিন্দু। তাই, আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক-একটি গবেষণাগার হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। সেটা হোক সরকারিভাবে কিংবা বেসরকারি সহযোগিতায়।

n লেখক : শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়